মো. ইয়াকুব আলী, ফুলপুর,
কবি গুরু রবিনদ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন ‘‘ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড় ছোট ছোট গ্রামগুলি”। কবি তাঁর এই কাবিতার লাইনে গ্রাম- বাংলার অবারিত রুপ বর্ণনা করে ফুটিয়ে তুলেছেন নির্মল পরিবেশ, যেখানে গাছ সুনিবিড় ছায়া দিয়ে শান্তির নীড় তৈরীতে সাহায্য করেছে। আবার কবি বন্দে আলী মিয়া বলেছেন- ‘‘আম গাছ জাম গাছ বাঁশ ঝাড় যেন, আছে সেথা সবে মিলে আত্মিয় হেন”। কিন্তু সেই আত্মিয়তা আর নেই। কারণ মানুষ নির্বিচারে, নির্বিকারে কাটছে গাছ।প্রয়োজন অনুযায়ী গাছ লাগানো হচ্ছে না।
ফলে হুমকির মুখে পড়ছে আমাদের পরিবেশ।বলা হয়ে থাকে পরিবেশকে বাঁচাতে গাছের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।একটি দেশের মোট ভূখণ্ডের কমপক্ষে ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা দরকার। বাংলাদেশের আছে মাত্র ১৭.৫ ভাগ। দিন দিন তা কমে আসছে।গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আবহাওয়ার আচরণ বদলে গেছে। গরমের সময় ঠাণ্ডা, ঠাণ্ডার সময় গরম পড়ে। কৃষি উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে। পরিবেশ-প্রকৃতি বাঁচাতে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। এমনাবস্থায় ময়মনসিংহ ফুলপুরে রুপসি ইউনিয়নের ‘বিহারাঙা স্টুডেন্ট এস্যোসিয়েশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে শতাধিক পরিবারের মাঝে বিভিন্ন ধরনের চারা গাছ বিতরণ করেন।
উক্ত এস্যোসিয়েসন টি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেচ্ছা শ্রমে কাজ করে যাচ্ছেন এবং গ্রামের লোকজনদের কে বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করেন।বই পড়া উৎসবের মতো গাছ লাগানোরও উৎসব মনে করছেন তারা।আহমেদ শেখ জয় জানান,সরকারের পাশাপাশি সাধারণ জনগনেরও উচিৎ এ কর্মকান্ডে সক্রিয় ও সয়ংক্রিয় ভাবে যোগ দেয়া। আমাদের বাঁচতে ও আমাদের আগামী প্রজন্মকে বাঁচাতে আমাদেরকেই সচেতন হতে হবে। আসুন গাছকে বন্ধু ভেবে নিজের কল্যাণের জন্যই গড়ে তুলি সবুজ পৃথিবী।
