ঢাকা৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্বাস্থ্যসেবায় রোল মডেল হালুয়াঘাটের জয়রামকুড়া হাসপাতাল

প্রতিবেদক
Mymensingh
জুলাই ১৮, ২০২০ ৬:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মুহাঃ মাসুদরান, হালুয়াঘাট প্রতিনিধিঃ

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রকোপ দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। প্রতিদিন শতশত মানুষ করোনা উপসর্গ নিয়ে এবং উপসর্গ ছাড়া দুভাবেই আক্রান্ত হচ্ছে। এমনি অবস্থায় সারাদেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যখন ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম ঠিক সেই মুহূতেও করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী উপজেলা হালুয়াঘাটের ঐতিহ্যবাহী স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান জয়রামকুড়া হাসপাতাল রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। যদিও হাসপাতালের অর্থনৈতিক অবস্থা পূর্বের তুলনায় একটু দূর্বল এবং করোনার ভাইরাসের কারনে প্রতিনিয়তই কমছিলো রোগীর সংখ্যা।

হিমশিম খেতে হচ্ছিলো হাসপাতালটি পরিচালনায়। তথাপিও হাসপাতাল কতৃপক্ষ এ সংকটময় অবস্থায়, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এখানে রোগীদের আউটডোর সেবা ছাড়াও প্রয়োজনে টেলিমেডিসিন সেবা বিদ্যমান রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায় যে, হাসপাতালের বাহিরে ও ভিতরে সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, জীবাণুনাশক স্প্রে করা, শতভাগ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নিশ্চয়তা, এমনকি রয়েছে আউটডোর রোগিদের হাসপাতালে প্রবেশপথে তাপমাত্রা মাপার মেশিন। জানা যায়, এ হাসপাতালে প্রতিবছর একদল জাপানি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আসেন। তারা অনেক জটিল অপারেশন স্বল্প ব্যয়ে করে থাকেন।

কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে এ বছর তা আর হয়ে ওঠেনি। বর্তমানে কোন সমস্যা আছে কি না জানতে চাইলে, হাসপাতাল কতৃপক্ষ আক্ষেপ করে বলেন, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাক্তার লুসি দারিং, ডাক্তার তাপস রেমা, হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক মি.তরুন দারিং এবং প্রতিষ্ঠানটির অর্থ ব্যবস্থাপক অঙ্কুর ভৌমিক প্রমুখ। হাসপাতাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট ডাক্তার তাপস রেমা এ প্রতিবেদককে জানান, বর্তমানে আমাদের হাসপাতালে ছয় জন ডাক্তার ও দুই জন প্যারামেডিকেলও নিয়মিত রোগী দেখছেন। রোগীর চাপ রয়েছে যথেষ্ট।

তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে রোগীদের সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছি। হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক মি.তরুণ দারিং বলেন, এখানে ব্র্যাক কর্তৃক পরিচালিত ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স এন্ড মিডওয়াইফারি এবং জিবিসি কতৃক পরিচালিত ডিপ্লোমা ইন নার্সিং নামে দুটি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে করোনার পরিস্থিতি জন্য বন্ধ রয়েছে। হালুয়াঘাট তথা এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবী, সকল প্রতিকূলতার মধ্যেও হাসপাতাল কতৃপক্ষ মানুষের মাঝে যে ভাবে সেবার দ্বার উন্মোচিত রেখেছেন তা যেন অব্যাহত থাকে।