ঢাকা১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অসহায় দরিদ্র বিধবা চাঁদনির পাশে দাঁড়ালেন নকলা অদম্য মেধাবী সংস্থার

প্রতিবেদক
Mymensingh
জুলাই ১৮, ২০২০ ৬:২৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

মোঃ নাসির উদ্দিন,নকলা(শেরপুর):

১৮ জুলাই নকলা অদম্য মেধাবী সংস্থা ৫ নং বানেশ্বদী ভূরদি গ্রামের মৃত নুর রহমানের স্ত্রী চাঁদনির হাতে নগদ ৩৫০০০(পয়ত্রিশ হাজার ) টাকা ও একটি সেলাই মেশিন প্রদান করেন।সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নকলা উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও নকলা অদম্য মেধাবী সংস্থার উৎসাহ প্রদানকারী এফ এম কামরুল আলম রনজু, নকলা অদম্য মেধাবী সংস্থার সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাসির উদ্দিন, অনুদান বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর রউফ শিবলু,কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য আল আমিন, মিঠুন হাসান প্রমুখ।-

চাঁদনি তার স্বামী দুই সন্তান নিয়ে ঢাকা আমিন বাজারে থাকেন। চাঁদনি গার্মেন্টসে কাজ করে স্বামী নূর রহমান রিক্সা চালায়। চাঁদনি এবং নূর রহমানের স্বপ্ন ছিল কিছু টাকা সঞ্চয় করে দেশে চলে আসবে।

স্বপ্ন পূরনের লক্ষে জীবন সংগ্রামে নেমে পড়েন। সাত বছর সংসারের খরচ ব্যাতিত সমস্ত কষ্টার্জিত টাকা সঞ্চয় করতে থাকেন।পরিকল্পনা করতে থাকেন গ্রামের বাড়িতে এসে কি করবে। স্বামী স্ত্রী মিলে সিদ্ধান্ত নেন দুটি গাভি ক্রয় করবে এবং চাঁদনি সেলাই কাজ করবে, ছেলে দুটিকে হাফেজী লাইনে লেখা পড়া করাবে এবং কোরআনের হাফেজ বানাবে।

চাঁদনি এবং চাঁদনির স্বামী দুই জনে সাত বছর ঢাকায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে লক্ষিত জায়গায় এসে স্বপ্ন পূরনের লক্ষে গ্রামের বাড়িতে আসার জন্য ঢাকা থেকে একটি ট্রাকে করে বাড়ির দিকে রওনা হয়।বাড়িতে আসার পথে চাঁদনি স্বামী নূর রহমান চলন্ত ট্রাকের উপর থেকে ছিটকে পড়ে যায়। যার ফলে মেরুদণ্ড হাড় সহ গাড়ের হাড় এবং পা ভাঙা সহ শরীরে জায়গায় ক্ষত হয়।চাঁদনির স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। চাঁদনি তার স্বামীকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করান। হাসপাতালে কয়েক দিন থাাকার পর শরীরে পিঠের মাংসে পচন দেখা দেয়। হাসপাতাল থকে নুর রহমানকে ছুটি দিয়ে দেয়। চাঁদনির জমানো সব টাকা স্বামীর চিকিৎসা করাতে ব্যয় হয়ে যায়।অসহায় চাঁদনি স্বামীর বাড়িতে মৃত্যু পথযাত্রী স্বামীকে নিয়ে বিপাকে পড়ে যায়।

অনলাইন পত্রিকা কলম ২৪ ডট কম ও জাগো টেলিভিশনে একটি নিউজের মাধ্যমে অদম্য মেধাবী সংস্থা নির্বাহী পরিচালক আবু শরিফ কামরুজ্জামানের নজরে আসে। আবু শরিফ কামরুজ্জামান তার সুসংগঠিত সংগঠন অদম্য মেধাবী সংস্থার বাংলাদেশের যারা দায়িত্বে আছেন, তাদেরকে নির্দেশ দেন চিকিৎসা সহ সমস্ত দায়িত্ব নেওয়ার জন্য। অদম্য মেধাবী সংস্থা সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন এবং সহকারী পরিচালক আতিকুর রহমান আতিক চাঁদনির বাড়িতে যোগাযোগ করেন।সাথে সাথে ডাক্তার এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা ঔষধ এবং পথ্য সহ তার পরিবারে খাবার সহ ব্যবস্থা নেন। ইতিমধ্যে চাঁদনির স্বামী নূর রহমান মৃত্যু বরন করেন। চাঁদনি স্বামীর সেবা এবং স্বামী মৃত্যুর শোকে চাঁদনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।আবার অদম্য মেধাবী সংস্থা চাঁদনি কে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা করান। চাঁদনি এবং চাঁদনির স্বামীর স্বপ্ন পূরনের জন্য দুই সন্তানকে হাফেজি পড়ানোর দায়িত্ব নেন।

আবু শরিফ কামরুজ্জামান বলেন,কেউ যদি বিশ্বাস নিয়ে তার নিজের স্বপ্নের পথে নিজের জীবন আর পরিশ্রমকে নিবেদিত করে,এক সময়ে সে ধারণার চেয়েও বেশি সাফল্য পাবে” নাসির উদ্দিন একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দুনিয়ায় অপরের একটি প্রয়োজন মিটিয়ে দেবে, পরকালে আল্লাহ তার ১০০ প্রয়োজন পূরণ করে দেবেন এবং বান্দার দুঃখ-দুর্দশায় কেউ সহযোগিতার হাত বাড়ালে আল্লাহ তার প্রতি করুণার দৃষ্টি দেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৬)। অসহায় চাঁদনি বলেন, আমাকে যে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়েছে, এবং ৩৫০০০ টাকা দিয়ে সে সহযোগিতা পেলাম সেই টাকা দিয়ে সেলাইয়ের পাশাপাশি নতুন কাপড়ের ব্যবসা করবো।একজন মানুষ জীবনে ছোট বা বড় – যা-ই অর্জন করতে চায় না কেন, তার পেছনে একটি স্বপ্ন থাকা জরুরী। এটা মানুষকে প্রতিদিন, প্রতি মূহুর্তে অনুপ্রেরণা দেয়।