মোঃ আনিসুর রহমান,
মালেকা বেগম বয়স ৯৩ বছর। এ বয়সেও পাননি বিধবা কিংবা বয়স্ক ভাতার কার্ড। অর্থাভাবে নানা সংকটে ভুগছেন তিনি। বয়সের ভারে নুব্জ তিনি। প্রায় ২৫ বছর পূর্বে তার স্বামী মারা যায়। একটি মাত্র ছেলেকে নিয়ে অনেক কস্টে দিনাতিপাত করছেন মালেকা।ছেলে খালেক মোবাইল মেকারনিজ হিসেবে কাজ করে কোন রকমে সংসার চালাচ্ছেন। মালেকা ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার ৮নং দাওগাঁও ইউপির বাওকপালীয়া গ্রামের আমির উদ্দিন খাঁনের স্ত্রী। কয়েক বছর ধরেই একটি বয়স্ক বা বিধবা ভাতার কার্ডের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তবে শুধু আশ্বাসই পেয়েছেন, তিন বছরেও কেউ তাকে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করে দেননি।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বয়স্ক ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে তার বয়স অনেক বেশি। বয়স বেশি থাকার পরও বয়স্ক এবং বিধবা ভাতার যোগ্য হলেও এখনো পাচ্ছেন না। প্রতিবেশিরা জানান, প্রায় এক যুগেরও বেশি আগে অর্থ সংকটের কারণে চিকিৎসার অভাবে স্বামী আমির উদ্দিন খাঁন মারা যান। স্বামীর সঞ্চয় বলতে অল্প কিছু জমি এবং স্বামী মারা যাওয়ার সময় তিন মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। ৩ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন অনেক কষ্ট করে। ছেলেকেও বিয়ে করিয়েছেন। মালেকা জানান, অনেকবার তার ছবি এবং আইডি কার্ডের ফটোকপি নেতাদের মাধ্যমে জমা দিয়েছেন। কিন্তু তাদের হাতে টাকা দিতে পারেনি বলে এখনো জুটেনি তার কার্ড।
তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, ‘কত বছর বয়স হলে কার্ড হয়?’ ‘কার কাছে গেলে আমার একটা কার্ড হবে? আমারে একটা কার্ডের ব্যবস্থা করে দেন, বুড়ো বয়সে আমি একটু শান্তি পাই। আল্লাহ আমনের ভালা করবে।’ এদিকে এতো বছর বয়সেও কোনো ধরনের কার্ড হয়নি এব্যাপারে জানতে ৮নং দাওগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মজনু সরকারের ব্যবহৃত নাম্বারে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
