ঢাকা১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সোমেশষরী নদীর পানি বৃদ্ধি দুর্গাপুরে বেরীবাঁধ ভেঙে ঘর-বাড়ি বিলীন হওয়ার আশংকা

প্রতিবেদক
Mymensingh
জুন ২৮, ২০২০ ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

এস.এম রফিক,দুর্গাপুর:

নেত্রকোনাস্থ দুর্গাপুর উপজেলার সোমেশষরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের কালিকাবর বেরীবাঁধ ভেঙে প্রায় কয়েকশ ঘর-বাড়ি নদী গর্ভে বিলীনের শঙ্কায় ভুগছেন স্থানীয়রা। ২৮ জুন শনিবার বিকেল ৪টার দিকে ভাঙন কবলিত এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। দুপুর ২টার দিকে ঐ বেরীবাঁধের ফাটলধরা জায়গাটি ও আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ বাড়ি-ঘর পরিদর্শন করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তাব্যক্তিরা। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ঐ ইউনিয়নের গাঁওকান্দিয়া গ্রামের মকিম আলী সরকারের বাড়ি থেকে দক্ষিন দিকে ইব্রাহীম মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত নদীর বেরীবাঁধের ১১শত ফুট রাস্তা সংলগ্ন ঘেষে গড়ে উঠা ঘর-বাড়ি চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। ঐ বেরীবাঁধের মকিম সরকারের বাড়ির পাশে ঢলের ¯্রােতে নিচ দিয়ে বিশাল গর্ত তৈরী হচ্ছে। আর উপর থেকে বিশাল আকৃতির মাটির চাকা দপ দপ করে নদীতে ঢলে পড়ছে। নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে আশপাশের বসতিদের শঙ্কা আর উৎকণ্ঠায় সময় পার করছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বেরীবাঁধ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন ও উর্দ্ধতন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। ঐ জনপ্রতিনিধি নিজ উদ্যোগে একশত বাঁশ কেটে বাঁধের পাশে জমাট করেন।

স্থানীয়দেরকে সাথে নিয়ে প্রাথমিক বাঁধ রক্ষায় তিনি কাজ করছেন বলেও জানা যায়। ঐ বেরীবাঁধটি ভেঙে গেলে ঐখানকার বেশক’টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা,একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, গাঁওকান্দিয়া বাজার,ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় সহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। অনেক অসহায় পরিবার ভিটে বাড়ি হারানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রহিত মিয়া,জাহাঙ্গীর ও অসংখ্য ভুক্তভোগী এ প্রতিবেদককে জানান, কালিকাবর বেরীবাঁধটি রক্ষায় অনেকবার স্থানীয় এমপিদের দিয়ে পরিদর্শন করিয়েছি। সবাই কথা দেয় কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়না।

এ বাঁধটি এখন এখানকার লোকজনের গলার কাটার মতো বিধে আছে। বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আমাদের এ বেরীবাঁধটি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন এমনটাই আমাদের দাবী। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, সোমেশষরী নদীতে বন্যার পানি আসলেই গাঁওকানিদয়া ইউনিয়নের এ বেরীবাঁধটি থেকে প্রায় ৫-৭ কিলো রাস্তার নদী ভাঙনের কবলে পড়ে। প্রায় দুইশতাধিক ঘর-বাড়ি চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

যেকোন সময় নদীতে এসব ঘর-বাড়ি ধসে যেতে পারে। আমি উপজেলা প্রশাসনকে এ বিষয়টি অবহিত করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড নেত্রকোনা জেলার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রহিদুল হোসেন খান জানান,কালিকাবর বেরীবাঁধটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ইতিমধ্যে রিপোর্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাটিয়েছি। আশা করছি অচিরেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।