মোঃ নাসির উদ্দিন,নকলা(শেরপুর):
শেরপুরের নকলা উপজেলায় ব্রহ্মপুত্রের শাখা মৃগী নদীর ভাঙন রোধে শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। নদী ভাঙনের ফলে ফসলি জমি ভিটে বাড়ি হারিয়ে অসহায়ের মত জীবন যাপন করছে নকলা উপজেলার ৯নং চন্দ্রকোনা ও ৮ নং চর অষ্টধর ইউনিয়নের শত শত পরিবার।
বিগত ১ যুগ যাবৎ এই ব্রহ্মপুত্রের শাখা মৃগী নদীর ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। গত কয়েক বছর ধরে নকলা উপজেলার দক্ষিনাঞ্চলে নদীর পাড়ে বসবাসরত মানুষের জন্য এখন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে বিগত কয়েক বছরে শতাধিক ঘরবাড়ি,ফসলি জমি গাছপালা,কবরস্থান সহ মসজিদ বিলীন হয়ে গেছে এই নদী গর্ভে। নদী ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে ৮নং চর অষ্টধর ইউনিয়নের নারায়ণখোলা দক্ষিণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ।
এরই মধ্যে চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের বেতমারি,চকবরীগাছী, দড়িপাড়া, বাছুর আলগী, হালগড়া সহ ঐ এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র সংযোগ সড়কটি বেশ কিছু অংশ নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয় চন্দ্রকোনা কলেজের প্রভাষক কামরুল ইসলাম গেন্দু বলেন, ব্রহ্মপুত্রের শাখা মৃগী নদীর ভাঙন রোধে সঠিক পরিকল্পনা না নিলে আশপাশের এলাকা সহ ঐতিহ্যবাহী রবিশস্য জন্য বিখ্যাত চন্দ্রকোনা বাজার হুমকির মুখে পড়বে ।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা সাবেক কৃষি মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী ও চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের সন্তান বর্তমান সড়ক ও সেতু মন্ত্রানালয়ে সচিব নজরুল ইসলামের এই নদী ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নজরে আনার জন্য অনুরোধ করেন।
নকলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুর রহমান বলেন, নদী ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে উর্ধতন কর্মকর্তা সাথে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত ভাঙ্গন রোধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-পরিচালক শেরপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ৮নং চর অষ্টধর ইউনিয়নের নারায়নখোলা ভাঙন রোধে ৫০০ মিটার এলাকায় বালির জিও ব্যাগ ফেলার পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের ফাইল পাঠানো হয়েছে অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করব। তবে চন্দ্রকোনা এলাকায় ভাঙন রোধে এখনো কোন পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।
