এনামুল হক ছোটন:
ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ হাফিজুর রহমান সজল ছিলেন একজন মানবতার সেবক। তিনি দীর্ঘ ১ বছর ১১ মাস সফলতার সাথে দায়িত্ব পালনের পর বদলি জনিত কারনে বিদায় নিচ্ছেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার হতে। তার বিদায় উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহের প্রতিটি স্তরে ও ময়মনসিংহবাসী কি যে শূন্যতা অনুভব করছেন।
তার বিদায় উপলক্ষে এই করোনা পরিস্থিতিতেও বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোসহ ময়মনসিংহের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনগুলোর পক্ষ শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন পাশাপাশি সম্মাননা ও ক্রেস্ট প্রদান করছেন।
তিনি কর্মের পাশাপাশি মানবিক কাজকর্মের মাধ্যমে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা সহ ময়মনসিংহবাসীর কাছে এতটাই জনপ্রিয় ও মানবতার সেবক হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। নিজের অফিসিয়াল দায়িত্বের বাইরেও বিভিন্ন মানবিক কাজের কারণে তিনি ময়মনসিংহের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন।তিনি একজন সত্যিকারের মানবতার সেবক ছিলেন।তিনি যেমন দায়িত্বতের প্রতি অবিচল ছিলেন তেমনি সংগঠন ও সেচ্ছাসেবী প্রিয় ছিলেন।
তিনি এতটাই সেচ্ছাসেবী প্রিয় ব্যক্তি যে স্বেচ্ছায় বিনামূল্যে মানুষের জীবন বাঁচাতে শত ব্যবস্থার মধ্যেও নিজের শরীল থেকে ১৯ বার মুমূর্ষু রোগীদেরকে রক্ত দান করেছেন। নিজ দায়িত্ব পালনে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন পাশাপাশি তিনি আত্মমানবতার সেবায় উদারতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি সদর উপজেলা অসহায় গরীব ও দুস্থ মানুষের মাঝে শুধু সাহায্য ও সহযোগিতায় নয় যে কোন প্রয়োজনে পাশে দাড়িয়েছেন।
তিনি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দিন-রাত মানুষের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।কিছুদিন পূর্বেও এক স্কুল শিক্ষক জীবিকার তাগিদে রিকশা চালাচ্ছে শুনে তিনি রাতের আধারেই ছুটে যান এবং স্কুল শিক্ষকে খাদ্য সামগ্রী প্রদানসহ জীবিকা নির্বাহের জন্য সেলাই মেশিন প্রদান করেন। তিনি শুধু মানুষের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন না অসংখ্য মানুষের আতœকর্মসংস্থান ও জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।তিনি এই করোনা ভাইরাসের সময়ের নিজের কথা চিন্তা না করে সর্বদা মানুষের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।
গতকাল করোনা অপেক্ষা করেও বিদায়ী প্রিয় ইউএনও ও মানবতার সেবকে বিদায় জানান ময়মনসিংহ সদর উপজেলা, আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প, এছাড়াও হোমিওপ্যাথিক ঔষধসহ বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও সামাজিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন। গত মঙ্গলবার ময়মনসিংহের বিভিন্ন সামাজিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন তার বিদায় জানাতে ময়মনসিংহ জয়নুল উদ্যানের বৈশাখী মঞ্চে বিদায়ী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আর তার বিদায় বেলায় শুভকামনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল ও নাট্য ব্যক্তিত্ব ও বহুরুপী নাট্য সংস্থার সচিব শাহাদাত হোসাইন খান হেলু, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আজাদ জাহান শামিম, জন উদ্যোগতার আহ্বায়ক অ্যাড. নজরুল ইসলাম চুন্নু, , সুজন ময়মনসিংহ মহানগরের সভাপতি সাব্বির লিটন, ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের সাবেক সভাপতি কোরাইশী, সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক কবি স্বাধীন চৌধুরী, নিরাপদ সড়ক চাই ময়মনসিংহের সভাপতি আব্দুল কাদির চৌধুরি মুন্না , এপেক্স ক্লাব অব ব্রহ্মপুত্রের সভাপতি আলী ইউসুফ, অনসাম্বল থিয়েটার সভাপতি মনসুর, ময়মনসিংহ যুব নাগরিক সোসাইটি সভাপতি সূর্বত চক্রবর্তী, বিডি ক্লিন ময়মনসিংহের বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাড. মতিউর রহমান ফয়সাল ও আসাদুজ্জামান রুবেল ও সদর উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদুল হাসান।
অনুষ্ঠানে আরও অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন সাংবাদিক বাবলি আকন্দ, নাজমুল হাসান সজিব, , সাফ্রান আহমেদ, সারোয়ার হোসেন, সমাজকর্মী আলামিন আলভী, সময় টিভির ময়মনসিংহ ব্যাুরো চিফ হারুন অর রশিদ, ব্রহ্মপুত্র ব্লাড কল্যান সোসাইটি সভাপতি মমিনুর রহমান প্লাবন, মাখলাকুর রহমান তন্ময়, আবু আল সাঈদ সিফাত, স্কাউটার রফিকুল ইসলাম, উৎসব সিংহ সাগর,মিনহাজ মিলন, এম জে রুমেল, স্বেচ্ছাসেবক শেখ ইশান ও শাহাদাতসহ প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতাগণ।
এছাড়াও কয়েকদিন আগে কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল তার সম্মানে শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট প্রদান করে। তিনি এতটাই কর্মমুখী ও মানবসেবক ছিলেন আগামীকাল তার বিদায় জেনেও গতকাল করোনা প্রতিরোধে ও শরীলের রোগ প্রতিরোধ বৃদ্ধির জন্য হোমিওপ্যাথি ঔষধ বিতরণ করেছেন। তার বিদায়ে ময়মনসিংহবাসী আজ এক অপরিসীম শূন্যতা অনুভব করছে পাশাপাশি তাদের মাঝে শোকের ছায়া বিরাজমান।
