ঢাকা১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাহাড় কেটে তুলা হচ্ছে পাথর, ধ্বংস হচ্ছে গারো পাহাড় ,দেখার কেউ নেই

প্রতিবেদক
Mymensingh
জুন ২১, ২০২০ ৯:৪০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেরপুর থেকে শাহরিয়ার শাকির :
শেরপুরের গারো পাহাড়ে প্রভাবশালী মহল ও বনবিভাগের এক শ্রেণীর কর্মকর্তার যোগ সাজশে পাহাড় কেটে তুলা হচ্ছে পাথর। ধ্বংস হচ্ছে পাহাড়। এসব দেখার যেন কেউ নেই। দিনে রাতে পাথর উত্তোলন করে পাচার করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। কিন্তু কেউ তাদের আটক করছেনা ব্যবস্থা নিচ্ছেনা।
দেশের সীমান্তবর্তী শেরপুর জেলার বিশাল এলাকাজুড়ে অবস্থিত নয়ানাভিরাম গারো পাহাড়।

একসময় সরকারী ডাকে পাথর উত্তোলন করে গারো পাহাড়ের ব্যাপক ক্ষতি করা হয়। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার্থে গারো পাহাড়ে পাথর উত্তোলন একবারে বন্ধ করে দেয়। এতে পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসম্য অনেকটাই ফিরে আসে। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল বনবিভাগের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে অবাধে পাহাড় কেটে পাথর উত্তোলন করছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে গাছপালা, নষ্ট হচ্ছে গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসম্য। এমন অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী।

পাহাড়ের ছোট ঝরনার পার কেটেও তুলা হচ্ছে পাথর। এতে ধ্বসে পড়ছে পাহাড়ের উচু টিলা। মাঝে মাঝে বন বিভাগের পক্ষ থেকে কিছু পাথর আটক করলেও তা একেবারেই লোক দেখানো। স্থানীয়দের দাবী এ পাহাড়ের ভারসাম্য রক্ষা করার পয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হউক। সরজমিনে পাথর উত্তোলনের বিষয়টি দেখতে গেলে দেখা যায় দিনে দুপুরেই পাহাড় কেটে পাথর তুলা হচ্ছে। এসব পাথর দিনেই আবার ভেঙ্গে রাতে পাচার করা হয় বিভিন্ন স্থানে। এসবকিছু বনবিভাগের লোকজনের জানার বাইরে হচ্ছে, এমনটা মানতে নারাজ সচেতন মহল।

এ বিষয়ে স্থানীয় বিট কর্মকর্তা মকরুল ইসলাম আকন্দের কাছে জানতে চাইলে, তাদের লোকবলের অভাবের কথা বলে পাথর পাচারের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি একা দুই বিটের দায়িত্বে থাকি। আমার চার লোকের মধ্যে দুই জন অসুস্থ। আর দুইজন মোটর সাইকেল চালাতে পারে না। আমার পক্ষে তো সব দেখা সম্ভব হয়না।

বনবিভাগের রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: ইলিছুর রহমান, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের লোকবল কম থাকার পরেও তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তারা নিয়মিত পাথর চুরির সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হচ্ছে। কারা এ পাথর উত্তোলনের সাথে জড়িত, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তাদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।

এদিকে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবেল মাহমুদ জানান, পাথর উত্তোলনের বিষয়টি তিনি জানেননা। তিনি দ্রæতই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ স্থানীয় কিছু বন কর্মকর্তা এ বনে আসার পর থেকেই অবৈধভাবে পাথর বালু উত্তোলন করে আসা হলেও তারা দেখেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। উল্টো যারা বাধা দিতে যায় তাদের বিরুদ্ধেই দেয়া হয় বনমামলা। তাই দ্রæত এসব কাজে জড়িত বনকর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার দাবী এলাকাবাসীর।