ঢাকা৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

করোনায় মৃতের মর্যাদাজনক দাফনের ব্যবস্থা নিন : আল্লামা কাসেমী

প্রতিবেদক
Mymensingh
জুন ২১, ২০২০ ৭:০৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

করোনা মহামারিতে আক্রান্তদের প্রতি সামাজিক বৈষম্য দূর করতে এই রোগে মৃতদের লাশ থেকে সংক্রমণের ভীতি দূর এবং আরো মানবিক ও মর্যাদাজনক উপায়ে দাফনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।

শনিবার এক বিবৃতিতে জমিয়ত মহাসচিব বলেন, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাসহ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বার বার বিবৃতি দিয়ে বলছেন যে, একজন জীবিত করোনা আক্রান্তের শরীরে ভাইরাস যেরূপ সক্রিয় এবং বিস্তারের প্রবল ঝুঁকি থাকে, করোনায় মৃতের শরীরে সেভাবে থাকে না। বরং তিন ঘণ্টা পর লাশের দেহে বিদ্যমান ভাইরাসগুলো সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। এটা বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিত।
তা হলে তুলনামূলক অধিক ঝুঁকিপুর্ণ করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা চলতে পারলে, ঝুঁকিহীন মৃতের লাশ নিয়ে ভাইরাস বিস্তার প্রতিরোধী এত বিধি-নিষেধ ও আয়োজন কেন? কেন করোনায় মৃতের লাশের প্রতি এমন অবহেলা ও অচ্ছ্যুত ভাবা? করোনায় মৃতের লাশ নিয়ে বাড়াবাড়ি রকমের আয়োজন জনমনে ভীতি তৈরির খোরাক যোগাচ্ছে।

জমিয়ত মহাসচিব বলেন, করোনায় মৃতদের লাশ দাফনে মাত্রাতিরিক্ত তড়িঘড়ি, অতি গোপনীয়তা এবং পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সুযোগে জায়গায় জায়গায় প্রতিবন্ধকতা, মৃতের চেহারা স্বজনদের জন্য শেষবার দেখার সুযোগ না থাকা ইত্যাদি কারণে এই ভাগ্যাহত মানুষগুলোর প্রতি মনের অজান্তেই সামাজিক বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। তাছাড়া করোনা আক্রান্ত যে কোনো রোগী মৃত্যু পরবর্তী এমন অবজ্ঞামূলক পরিণতি কল্পনা করে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে মনের জোর হারিয়ে ফেলেন। এতে তার শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় অবনতি দেখা দেয়। শরীরের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ভেঙে পড়ে এবং ওষুধে ঠিক মতো কাজ করে না। কারণ, রোগীর সুস্থতার জন্য মানসিকভাবে দৃঢ় থাকা অত্যন্ত জরুরি।

আল্লামা কাসেমী বলেন, করোনা মহামারিতে মৃতদের লাশ আরো মর্যাদাজনকভাবে দাফনের উদ্যোগ গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নে যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করে সরকার সহজেই এসব ভাগ্যাহত মানুষ ও পরিবারগুলোর প্রতি অমানবিক সামাজিক বৈষম্য ও মানসিক পীড়ন দূর করতে পারে।