জাতীয় সম্মেলনের পর প্রায় সাত মাস হতে চলল, পূর্ণাঙ্গ কমিটি পায়নি কৃষক লীগ। পদপ্রত্যাশীদের অপেক্ষা বাড়লেও দেশের বরতমান পরিস্থিতিতে কমিটি নিয়ে ভাবছেন না সংগঠনের নেতারা। তারা এখন করোনা মোকাবিলায় মনোযোগ দিতে চান।
জাতীয় কংগ্রেস শেষ হওয়ার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তিন সহযোগী ও এক ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা নিয়ে সবচেয়ে বেশি তৎপরতা দেখিয়েছিল কৃষক লীগ। তারা অন্য সব সংগঠনের আগে দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুমোদনের জন্য জমা দেয়।
বঙ্গবন্ধু-কন্যার ব্যস্ততা, তালিকা যাচাই-বাছাইসহ নানা কারণে প্রথম দিকে কিছুটা সময় গেলেও মার্চ মাস থেকে করোনাভাইরাসের প্রাদুরভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে তালিকা অনুমোদন ঝুলে যায়। শুধু কৃষক লীগ নয়, আরও তিনটি সংগঠনের কমিটিও আটকে আছে একই কারণে।
গত বছরের নভেম্বরে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম চার সংগঠনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এদের মধ্যে কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ ও আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা রয়েছে। আর যুবলীগ এখনো তালিকা চূড়ান্ত করতে পারেনি।
কৃষক লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে এখন দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি পাওয়া-না পাওয়া নিয়ে ভাবছেন না তারা। বরং তাদের ভাবনায় প্রাধান্য পাচ্ছে করোনা মহামারি মোকাবেলা ইস্যুটি।
এদিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনো অনুমোদন না হওয়ায় অপেক্ষা ফুরাচ্ছে না পদপ্রত্যাশীদের। তবে তারা এটাও মানছেন, এই পরিস্থিতিতে এটা খুব জরুরি নয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরপরই পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা পেতে দলীয় প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন পদপ্রত্যাশীরা।
গত বছরের ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত কৃষক লীগের সম্মেলনে সমীর চন্দ্র চন্দকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতিকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।
সে সময় সংগঠনটির নবনির্বাচিত নেতাদের সাত দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সংগঠনের সম্মেলন শেষে শীর্ষ দুই পদে নাম ঘোষণা শেষে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবেন।
সম্মেলনের দুই দিনের মাথায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তিন সদস্যের ‘জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ উপকমিটি’ করেন এবং কৃষক লীগের ১১১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদে আসতে আগ্রহীদের জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করেন। এ জন্য তিন দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
জমা পড়া জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে সাত দিনের মধ্যে কমিটি গঠন না হওয়ায় পরে আরও দশ দিন সময় নিয়ে নভেম্বরের ২৩ তারিখ খসড়া তালিকা করে কৃষক লীগ। পরবর্তী ছয় দিনের মাথায় ২৯ নভেম্বর দলীয় প্রধানের কাছে জমা দেওয়া হয় তালিকা।
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় পদপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে ছয় শতাধিক জীবনবৃত্তান্ত জমা পড়ে। এগুলো যাচাই-বাছাই করে কেন্দ্রীয় কমিটিতে কৃষক ও কৃষিকাজে সম্পৃক্ত ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।
পূর্ণাঙ্গ কমিটির সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে কৃষক লীগ সভাপতি সমীর চন্দ্র চন্দ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘গত বছরের ৬ নভেম্বর আমাদের সম্মেলন হয়। সম্মেলন শেষে ২৩ দিনের মাথায় কৃষক লীগের সাংগঠনিক নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে প্রস্তাবিত কমিটি আমরা জমা দিয়েছি। এখন ওনার সদয় অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি।’
কবে নাগাদ পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা পেতে পারেন বলে আশা করছেন জানতে চাইলে কৃষক লীগ সভাপতি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের মধ্যে আমরা এটা নিয়ে খুব একটা ভাবছি না। এখন করোনা মোকাবিলা করা নিয়ে আমরা ভাবছি।’
গত বছরের ৬ নভেম্বর কৃষক লীগের দুই পর্বের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হয় সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠান। এরপর বিকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বসে কাউন্সিল অধিবেশন।
কাউন্সিলে সভাপতি পদে ১৩ জন প্রার্থী হন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হন ১১ জন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। বৈঠক থেকে বেরিয়ে সমীর চন্দ্র চন্দ ও উম্মে কুলসুমের নাম ঘোষণা করেন ওবায়দুল কাদের।
নতুন সভাপতি সমীর ও সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম দুজনই আগের কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
কৃষক লীগের আগের কমিটির সভাপতি ছিলেন মোতাহার হোসেন মোল্লা এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শামসুল হক রেজা।
