ঢাকা৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মানবিক সমাজ গঠনে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি- এমপি ওয়াহাব আকন্দ

প্রতিবেদক
Arif
মার্চ ২, ২০২৬ ১০:২৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।

মহানগর বিএনপির জৈষ্ঠ্য যুগ্ম আহবায়ক ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও ময়মনসিংহ-৪ আসন থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেছেন- একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আজকের এই বিনামূল্যের থেরাপি ও পরামর্শ সেবা কর্মসূচি তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমরা চাই, সমাজের প্রতিটি মানুষ সমান সুযোগ পাক এবং কেউ পিছিয়ে না থাকে।

সোমবার (২রা মার্চ) সকাল ১১টায় উপজেলার মাইজবাড়ীস্থ আব্দুল খালেক হাই স্কুল প্রাঙ্গণে
প্রত্যেকটি জীবন মূল্যবান, সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে” এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ নিয়ে প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র, সদর, ময়মনসিংহ-এর উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসন ও প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টারের সহযোগিতায় আয়োজিত বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য দিনব্যাপী বিনামূল্যে থেরাপি চিকিৎসা ও পরামর্শ সেবা কর্মসূচি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সাংসদ আবু ওয়াহাব আকন্দ।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচীতে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে
আরও বলেন, প্রতিবন্ধিতা কোনো অক্ষমতা নয়; সঠিক সহায়তা ও সুযোগ পেলে তারাও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম। এজন্য পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী বলেন, ময়মনসিংহ সদরে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসন সর্বদা সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করে আসছে। এই ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজন করা গেলে উপকারভোগীরা সরাসরি সেবা পাবে এবং তাদের জীবনমান উন্নত হবে। আমরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবো।

তিনি উপস্থিত অভিভাবক ও সেবাগ্রহীতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে অনেক সমস্যারই উন্নতি সম্ভব। তাই সবাইকে এগিয়ে এসে এই সেবাগুলো গ্রহণ করার আহ্বান জানাই।

দিনব্যাপী কর্মসূচিতে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের মাঝে ফিজিওথেরাপি, স্পিচ থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রদান করা হয়। অভিজ্ঞ থেরাপিস্ট ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ব্যক্তিগতভাবে সেবাগ্রহীতাদের সমস্যা নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

এছাড়াও অভিভাবকদের জন্য বিশেষ কাউন্সেলিং সেশন আয়োজন করা হয়, যেখানে শিশুদের বিকাশ, পরিচর্যা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা হয়।

আয়োজকরা জানান, সমাজের অবহেলিত ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষদের পাশে দাঁড়াতে এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এমন কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

উপস্থিত সেবাগ্রহীতা ও তাদের অভিভাবকরা এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত হলে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জীবনমান আরও উন্নত হবে। মানবিক সমাজ গঠনে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে “প্রত্যেকটি জীবন মূল্যবান” এই অঙ্গীকারকে বাস্তবে রূপ দিতে।