ঢাকা১০ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিদায় নিলেন দেশের প্রথম ও ৩বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া

প্রতিবেদক
Arif
ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫ ২:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টারঃ
রাজনীতির এক প্রদীপ্ত নক্ষত্র, দেশের প্রথম ও ৩বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং ৪১ বছর ধরে বিএনপিকে নেতৃত্ব দেওয়া পাশাপাশি গণতন্ত্রের লড়াই চালিয়ে যাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জীবনাবসান ঘটেছে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই প্রয়াণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। তাঁর মৃত্যুতে দেশে দলমত–নির্বিশেষে সবাই এখন শোকাতুর। বিদেশি রাষ্ট্রনেতারাও জানাচ্ছেন শোক।

দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ দেশের রাজনীতির প্রধান অভিভাবক, জাতীয় ও আপোষহীন দেশনেত্রী খ্যাত বেগম খালেদা জিয়ার বিদায়ে গভীর শোক প্রকাশ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথ, সর্বত্রই এখন শোকের আবহ। দলীয় নেতা-কমীদের মাঝে শোকের মাতম বিরাজ করছে।


বুধবার সকালে হাসপাতাল থেকে তাঁর মরদেহ গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে দুপুরে তাঁর মরদেহ বহনকারী বিশেষ কফিনটি জাতীয় পতাকায় মুড়িয়ে নিয়ে আসা হয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। সবুজ রঙের একটি সুসজ্জিত গাড়িতে করে তাঁর কফিন যখন রাজপথ দিয়ে যাচ্ছিল, তখন রাস্তার দুই পাশে হাজারো মানুষের ভিড় জমে। কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও সাধারণ সমর্থকরা।
​এক নজরে শেষ বিদায়ের আয়োজন:
​রাষ্ট্রীয় শোক: সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে সারাদেশে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
​জানাজা: সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ রাখা হয়।
​দাফন: শেরেবাংলা নগরে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

​একটি যুগের অবসান
​১৯৪৫ সালে জন্ম নেওয়া বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি মোট তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। বেনজির ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি।
আপসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত এই মহীয়সী নারী তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু চড়াই-উতরাই পার করেছেন। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে ৮০ বছর বয়সে তিনি বিদায় নিলেন।

​তাঁর মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিদেশি কূটনীতিকরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় তাঁরা বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।​”দেশ ও মানুষের জন্য তাঁর ত্যাগ তাঁকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অমর করে রাখবে।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টনেও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে এবং নেতাকর্মীদের ভিড় ক্রমশ বাড়ছে।

জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোতে বেগম খালেদা জিয়ার পাশে ছিলেন তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মায়ের বিদায়ে তারেক রহমানের শোকাতুর অবস্থা দেশবাসীর হৃদয়কে ভারাক্রান্ত করেছে। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বেনজির ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী।