বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিতরণ ও প্রচারের একমাত্র সরকারি সংস্থা। এই সংস্থাটি শিক্ষাক্ষেত্রে ধারাবাহিক উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে শিক্ষাতথ্য বিনির্মাণ ও সরবরাহ করে জাতীয় ও আন্তজার্তিক সংস্থাসমূহের কাছে সমাদৃত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান কার্যক্রম ছাড়াও শিক্ষা সেক্টরে আই.সি.টি. প্রশিক্ষন ও আই.সি.টি. শিক্ষার প্রসারে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। সুত্র জানিয়েছে- ব্যানবেইস প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর সীমিত জনবল নিয়ে একজন পরিচালকের অধীনে ২ জন বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে কাজ শুরু করেছিলো, পরবর্তীতে কম্পিউটার বিভাগ যুক্ত করে প্রতিষ্ঠানের কলেবর বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে একজন মহাপরিচালকের নেতৃত্বে প্রধান কার্যালয়ে ১৭৫ জন এবং মাঠ পর্যায়ে এ ৬৪০ জন কর্মকর্তা কর্মচারী কাজ করছেন ।
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) এর কর্মচারীদের মাঝে একজন দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তা ছিলেন সাবেক সহকারী পরিচালক সাবের মাহমুদ। তার মেধার কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটির মহা পরিচালক সহ সকলেই তাকে ব্যাপক পছন্দ করেন। সিনিয়র- জুনিয়রদের সেই পছন্দই কাল হয়ে দাঁড়ালো চাকরী জীবনে। দুষ্কৃতকারীদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন তিনি। তার নামে দেওয়া হলো কেনাকাটায় প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। শাস্তি হিসেবে তাকে রংপুর সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু মেধার প্রয়োজন সবখানে প্রয়োজন। ব্যানবেইস এ তার মতো মেধাবী কর্মকর্তার অভাব পুরণ করতে
শিক্ষা ক্যাডারের এ কর্মকর্তাকে ফের ঢাকায় বদলি করে আনা হলেও থেমে নেই ষড়যন্ত্রকারীরা। কারণ সাবের মাহমুদ থাকলে অনিয়ম দুর্নীতি করা অসম্ভব। তাকে না সরালে ইচ্ছে মতো অনিয়ম দুর্নীতি করা যাবেনা বলেই অফিসের কিছু স্বার্থান্বেষী চক্রান্তকারীরা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানোসহ বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে বেড়াচ্ছে।
কতিপয় কর্মচারী মিথ্যা, বানোয়াট তথ্য দিয়ে ব্যানবেইস এর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে । প্রতিষ্ঠানটির সর্বস্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের অত্যন্ত আস্থাভাজন জনপ্রিয় কর্মকর্তা সাবের মাহমুদ এর বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ প্রচার করায় কর্মকর্তা কর্মচারীরা বিভিন্ন সময় জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টা এবং শিক্ষা সচিব এর কাছে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান । মিথ্যা সংবাদের উপর ভিত্তি করে তাকে শাস্তি হিসাবে রংপুর সরকারি কলেজে বদলি করা হলেও তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত করতে পারেনি ষড়যন্ত্রকারীরা। যে কারণে তাকে আবারও ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজে বদলি করে আনা হয়েছে।
কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা থেমে নেই। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) কে দুর্ণীতি ও অনিয়মের আখড়ায় পরিণত করার জন্য অপতৎপরতা অব্যাহত রেখেছে ষড়যন্ত্রকারীরা। ব্যানবেইস এর কর্মকর্তা কর্মচারীরা মনে করে এ ষড়যন্ত্র সাবের মাহমুদ এর বিরুদ্ধে নয় এ ষড়যন্ত্র সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমকে ব্যহত করার ষড়যন্ত্র, সম্ভাবনাময় ব্যানবেইস এর সকল কার্যক্রম বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্থ করার ষড়যন্ত্র। ব্যানবেইস এর সর্বস্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা এ ষড়যন্ত্র রুখে দিতে বদ্ধ পরিকর। ব্যানবেইস সুনাম ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার স্বার্থে সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মাধ্যমে মিথ্যা বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার জন্য
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) এর সকল কর্মকর্তা ঐক্যবদ্ধ।
ব্যানবেইস সুত্র মতে- সহকারী পরিচালক সাবের মাহমুদকে বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)থেকে সরাতে একটি মহল থেকে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। এছাড়া আগত কর্মকর্তা সাবের মাহমুদের যোগদান ঠেকাতে মিথ্যাভাবে কিছু গণমাধ্যম বানোয়াট প্রোপাগান্ডা ছড়ানো শুরু হয়েছে। সহকারী পরিচালক হিসেবে সাবের মাহমুদ এর ফের ঢাকায় বদলি হওয়ার পর থেকে কিছু দুষ্কৃতিকারী আমলারা সচিবালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে তাদের রাজনৈতিক দলের বৈঠক করছেন বলে গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ৩৬তম ব্যাচের শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা মো: সাবের মাহমুদ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যানবেইসের সহকারি পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একজন সরকারি কর্মকর্তা তার চাকরী জীবনে যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে নিয়মানুসারেই সেই সরকারের মন্ত্রী এমপি নিজ দায়িত্ব পালনকারী প্রতিষ্ঠানে আগমন করলে তার সাথে থাকতে হয়, এটাই নিয়ম, বর্তমানে যারা চাকরী করছেন তারাও নিজ-নিজ দপ্তরে আগত সরকারের উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তা বা উপদেষ্টাদের স্বাগত জানাচ্ছেন,তাদের সাথে প্রোগ্রাম করছেন, সরকারি একজন কর্মকর্তা হিসাবে এটা করতেই হবে, তাই বলে সে কোন দলীয় দোসর বা কিছু হবার সুযোগ নেই। এটা তার দায়িত্ব। সাবের মাহমুদ একজন শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসাবে তিনি তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সেমিনারে একসাথে প্রোগ্রাম করেছে। এটা তিনি তার ডিউটি হিসাবে করতেই পারেন। এই বিষয়টা নিয়ে তাকে দীপু মনির ঘনিষ্ঠজন হিসেবে আখ্যায়িত করাকেও একটা গভীর ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সাবের মাহমুদ কে নিয়ে এমন ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তে শিক্ষা প্রশাসনে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সাবের মাহমুদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিনিধিকে বলেন, যতই ষড়যন্ত্র হউক সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি তার উপর অর্পিত দায়িত্ব সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে পালন করবেন।
