ঢাকা১০ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপি’তে সংগ্রামের এক দীপ্ত শিখা শাহে আলম মিঞা

প্রতিবেদক
Arif
অক্টোবর ১০, ২০২৫ ৮:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শাহ আলম মিঞা বিগত ১৭ বছরে বানারীপাড়া উপজেলার বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে দূর্দিনের ভরসার স্থল হয়ে ওঠেন । যার নিত্যসঙ্গী ছিলো কারাগার। যিনি বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে একমাত্র আস্থার স্থল হিসেবে পরিচিত ছিলেন বিগত ১৭ বছর। শাহ আলম মিঞা বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বানারীপাড়া উপজেলা শাখার সভাপতি। তার পিতার নাম হাবিবুর রহমান হাওলাদার ও মাতার নাম ছখিনা বেগম। তাদের কোল আলো করে ১৯৬৫ সালের ২৯ জানুয়ারী জন্মনেন শাহ আলম মিঞা। তার বাড়ি বানারীপাড়া উপজেলার উদয়কাঠী ইউনিয়নের তেতলার গোয়ালিয়া গ্রামে। শাহ আলম মিঞা বিগত ৫ই আগষ্টের বিল্পবের পর একমাত্র পরিছন্ন নেতা হিসেবে জনগনের কাছে স্থান করে নিয়েছে । বানারীপাড়া জনগনের নির্ভরতা,নির্ভরশীলতা ও সহযোগীতার নাম এখন শাহ আলম মিঞায়। তিনিই একমাত্র নেতা যিনি নির্লোভ নির্ভেজাল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। জীবন ,জৌলস অর্থ বিত্ত সকল কিছু নির্দিধায় বিলিয়ে দিয়েছেন বিএনপি’র নেতাকর্মী ও জনগনের মাঝে।

রাজনীতির শুরুটা হয়েছিল বিএপি’র হাত ধরেই আজও রয়েছেন বিএনপি’তে । দলছুট সুবিধাভোগী নন তিনি, ১৯৯০ সালের সৈরাচার পতনে বানারীপাড়ায় বিএনপির পক্ষে জোড়াল ভুমিকা রেখে উপজেলাব্যাপী আলোচনায় চলে আসেন তিনি। ১৯৯১ সালে শাহ আলম মিঞা জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রেখে বিএনপি’র বিজয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হন তিনি। পরবর্তীতে ইউনিয়ন নির্বাচনে তিনি উদয়কাঠী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় ও একই বছরে ওই ইউনিয়নের তিনি বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী সমন্বয়ক এর দ্বায়িত্ব পালন করেন এবং বিজয়ী হন।

২০০৩ সালে তিনি আবারও বিপুল ভোটের ব্যবধানে উদয়কাঠী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ও জনগনের চাহিদা পূরনে তিনি ২০১১ সাল পর্যন্ত দ্বায়িত্ব পালন করেন। তিনি সততা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছিলেন জনগনের আস্থার প্রতিক। তার কাজের পরিধিতে এত ব্যপকতা ছিলো যে বানারীপাড়া রোল মডেল চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার কাজের পরিধিতে গ্রামীন অবকাঠামো ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে মন কেড়ে নিয়েছিল সবার,এছাড়াও মন্দির মসজিদ মাদ্রাসা উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসার ঘটানো ছিলো চোখে পরার মত। সাধারন মানুষের কল্যানকর কাজ করা তার দৈনন্দিন জীবনের মৃূল চালিকা শক্তি হয়ে দাড়িয়েছিলো।

এরই পেক্ষিতে ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে দলের আস্থার প্রতিক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বানারীপাড়ার। উপজেলা চেয়ারম্যান মনোনয়ন পেয়ে যান তিনি। হামলা মামলা ও নির্যাতনের ভয়কে উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন তিনি। সে সময় দিনের ভোট রাতে করে ভোট জালিয়াতির মধ্যে দিয়ে তাকে হারিয়ে দেয়া হয়।

২০১৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তার অবদানের কথা মাথায় রেখে তাকে বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি পদে নিযুক্ত করেন ।

পরবর্তিতে তিনি ২০১৭ সালে ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান উপ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন এবং একই কায়দায় তাকে হারানো হয়।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তার মেধা,প্রজ্ঞা,সততা ও জনপ্রিয়তা দেখে তাকে ২০২৩ বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক পদে দ্বায়িত্ব প্রদান করেন ও ২০২৫ সালে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় বানারিপাড়া উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি নির্বাচিত হন।

সোজাকথায় তাকে নিয়ে লিখতে গেলে শেষ হবার নয়। অবশেষে বলা যায় ২০০৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অসংখ্য ছোট বড় সভা,মিটিং,মিছিল ,বিক্ষোভ ও প্রতিবাদে অংশ গ্রহন করেন তিনি, এক কথায় বলা চলে সকালে বানারীপাড়া প্রোগ্রাম বিকেলে বরিশাল ও পরের দিন ঢাকার প্রোগ্রামে অংশ গ্রহন করেন তিনি। এক নয় একাধিকবার জেলও খেটেছেন শাহ আলম মিঞা । বিভিন্ন সময়ে বহুবার হামলা মামলার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি নিজ বাড়িতে খুবই কম সময় অতিবাহিত করতে পেরেছেন। তার এই রাজনৈতিক জীবনের পথ ছিলো সংগ্রামের এক জ্বালাময়ী পথ, যার প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল কন্টকময় ।যেখানে ছিল সার্বক্ষনিক মামলা হামলা ও নির্যাতনের কালো ছায়া। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাড়াতে গিয়ে বহুবারের কারাবাস তার মনোবল ভেঙে দিতে পারেনি এতটুকু বরং সত্যের পক্ষে আপসহীন অবস্থান তাকে জনতার প্রিয় রুপ দিয়েছে। পরিবার সমাজ রাজনীতির টানাপোড়ানে ও দূঃখ কষ্টের দিনে তিনি ছিলেন অবিচল। এত নিপীড়ন এত নির্যাতন বহু মামলা বহু হামলা সবকিছুর শৃঙ্খল ভেঙে দৃপ্ত সংকল্পে পথ হারাননি তিনি। আজ তার বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবন সংগ্রামের এক দীপ্ত শিখা।