ঢাকা৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভালুকার সর্বত্রই ইউএনও’র হাতে উন্নয়ন, সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলার নবজাগরণ

প্রতিবেদক
Arif
অক্টোবর ৭, ২০২৫ ৩:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা যেন এক নতুন ইতিহাস লিখছে। গত ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একের পর এক কার্যক্রম হাতে নিয়ে বদলে দিচ্ছেন জনপদের চেহারা। তাঁর পদক্ষেপে কোথাও পরিবেশ রক্ষায় কঠোর অভিযান, কোথাও উন্নয়নকাজের দ্রুত বাস্তবায়ন, আবার কোথাও মানবিক উদ্যোগ—সব মিলিয়ে ভালুকায় তৈরি হয়েছে নবজাগরণের আবহ।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি-
ইউএনও’র মেধাবী কর্মকান্ডে ভালুকায় উন্নয়ন কার্যক্রমে এসেছে গতিশীলতা।ভালুকা উপজেলা ও পৌরসভায় প্রায় ৪শত রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কার স্থানীয়দের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব করেছে। যেখানে সমস্যা, সেখানেই সমাধান—এ নীতিতে এগোচ্ছে প্রশাসন।

নগর ব্যবস্থাপনায় এসেছে আধুনিকতা। পৌরসভার যানবাহনের জন্য পার্কিং সেড, শতাধিক ওয়েস্ট বাসকেট বিতরণ, নন-মটরাইজড ভ্যান ও ডিপিপি প্রণয়ন করে বর্জ্য অপসারণে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে।

এ ছাড়া কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্লাস্টিক ব্যাগ বিতরণ ছিল একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। স্থানীয়রা বলছেন, আগে যেখানে বর্জ্য অপসারণে দিন লেগে যেত, এখন অনেক দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে।

রাজস্ব আদায়ে যুগান্তকারী পদক্ষেপ
উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় রাজস্ব আহরণে এনেছেন স্বচ্ছতা। অস্থায়ী পশুর হাট উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা দিয়ে বিগত বছরের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। স্থানীয় সরকার কর্মকর্তারা বলছেন, এটি ভালুকার ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা।

শিক্ষা ও যুব উন্নয়ন
শিক্ষার মানোন্নয়নেও ইউএনওর পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। ২০টিরও বেশী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে শহীদ মিনার নির্মাণ এবং মেয়েদের জন্য আধুনিক হাইজেনিক কর্নার স্থাপন ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে তিনি ছিলেন কঠোর। এসএসসি পরীক্ষা ২০২৫ চলাকালে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বরখাস্তসহ বিভিন্ন সাজা দেওয়া হয়েছে।

তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ, প্রতিযোগিতা আয়োজন ও তারুণ্যের উৎসব আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থীরা বলেন, “ক্রীড়ায় অংশগ্রহণে আমাদের নতুন অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে প্রশাসন।”

মানবিক উদ্যোগ
অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতেও পিছপা হননি ইউএনও। লটারির মাধ্যমে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে বিডব্লিউটিএর কার্ড বিতরণ, সাবমার্সিবল টিউবওয়েল বিতরণ, সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে শীতবস্ত্র ও সরকারি উপহার প্রদান করা হয়েছে।

উপজেলার মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান মিলিয়ে ২শতাধিক প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়েছে সরকারি অনুদান। স্থানীয়রা বলছেন, এর ফলে সুবিধাবঞ্চিতদের আস্থা বেড়েছে প্রশাসনের প্রতি।

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণ
জুলাই শহীদদের কবরস্থান সংরক্ষণ, তাঁদের স্মরণে রাবার স্ট্যাম নির্মাণ এবং খাল খননের উদ্যোগ স্থানীয় ইতিহাস ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে এসব পদক্ষেপ তরুণ প্রজন্মের কাছে ইতিমধ্যেই প্রেরণার উৎস হয়ে উঠছে।

শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কঠোরতা
শৃঙ্খলা রক্ষায় ইউএনওর ভূমিকা চোখে পড়ার মতো। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং সরকারি নির্দেশনার সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

সম্প্রতি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা এ বছর সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরাপদে উদ্‌যাপিত হয়েছে। স্থানীয় পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি বলেন, “এত সুশৃঙ্খলভাবে পূজা আগে কখনো হয়নি। ইউএনও সাহেবের কঠোর নজরদারির কারণেই সব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”

সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন
পরিবেশ রক্ষায় একদিনে এক লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ছিল নজরকাড়া। পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ মাঠ সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধন, মডেল মসজিদে ছাদবাগান, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে সোলার প্যানেল স্থাপন এবং পাবলিক লাইব্রেরি সংস্কার,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে অভিভাবকদের জন্য অভিভাবক ছাউনি,উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে নির্মিতব্য মিনি এমিউজমেন্ট পার্ক এবং “গ্রীন এন্ড ক্লীন ভালুকা” গড়ার প্রত্যয়ে ১ লক্ষ্য বৃক্ষ রোপণ, ভালুকা গার্লস স্কুলের সামনে নির্মিত অভিভাবক ছাউনি এবং সড়কদ্বীপে লেটারিং ও ফোয়ারার কাজের উদ্বোধনসহ আরো বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের উদ্বোধন অবকাঠামোয় যোগ করেছে নতুন মাত্রা।

ভালুকার বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতারা বলেন, “উন্নয়ন হচ্ছে ঠিকই, তবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার উদ্যোগও যে সমান্তরালে চলছে, এটি সত্যিই প্রশংসনীয়। ভালুকার সামগ্রিক উন্নয়নে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যেভাবে কাজ করছেন, এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ওনার সময়োপযোগী দিক নির্দেশনায় আমরা জনপ্রতিনিধিরাও স্বাচ্ছন্দে কাজ করতে পারছি।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির এক নেতা বলেন,বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রায় ১৬ বছর আমাদের নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলার কোন সুযোগ ছিল না। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমরা এই ইউএনও মহোদয়কে পেয়েছি। আমার কাছে মনে হয়েছে তিনি তার কাছে আসা সেবা প্রত্যাশীদের কথা শুনেন, বুঝেন এবং সাধ্য অনুযায়ী সমাধানের চেষ্টা করেন। একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছে আমাদের এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়া কিংবা পাওয়ার নেই। তিনি ভালুকায় যোগদানের পর থেকে রাস্তাঘাট,সবুজায়ন, পরিবেশ দূষণের হাত থেকে ভালুকাকে রক্ষা করা সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছেন এবং কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন যেটি অত্যন্ত ইতিবাচক। তবে যেহেতু জনপ্রতিনিধির কাজগুলো উনাকেই করতে হচ্ছে সেক্ষেত্রে এত বড় উপজেলার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কিছু ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তাকে পরতে হয়। সবমিলিয়ে আমার মূল্যায়ন হচ্ছে তিনি ভালো কিছু করার চেষ্টা করছেন, যেটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

পরিবেশ রক্ষায় কঠোর অভিযান
ভালুকা উপজেলায় কর্মরত সংবাদকর্মীরা বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরিবেশ রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেন ইউএনও। হাইকোর্টের নির্দেশে অবৈধ ইটভাটা ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের দু-পাশে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সেখানে পথচারীদের যাতায়াত সুবিধার্থে রাস্তা নির্মাণ, রাস্তার পাশে ব্যাঙ্গের ছাতার মত চা স্টল অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদ, অবৈধ শিসা ফ্যাক্টরি বন্ধ, মৎস্য খামারে মরা মুরগীর নাড়িভুড়ি ব্যবহার রোধ করে জনগনের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।

ভালুকা উপজেলার পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডাস্টবিন স্থাপন, ব্যাটারি চালিত ভ্যানগাড়ি সরবরাহ, ময়লা পরিষ্কারের সরঞ্জাম (ঝাড়ু, বেলচা, বালতি) প্রদান, উপজেলা চত্বরের আলোকসজ্জা, ট্রাফিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ এবং তাদের জন্য পোশাক, বাঁশি, লাঠি ইত্যাদি সরবরাহ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করণের পাশাপাশি উচ্ছেদকৃত দোকানীদের পুনর্বাসন করা হয়েছে। এসব কর্মকান্ডে উপজেলাব্যাপী ব্যাপক প্রশংসিত হয়ে উঠেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। পরিচ্ছন্ন ভালুকা গড়তে ইউএনও’র উদ্যোগ নজর কেড়েছে উপজেলাবাসীর।

তার মেধাবী পরিকল্পনায় ভালুকা উপজেলাকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর করার লক্ষ্যে গত ৮ জুলাই ২০২৫ ভালুকা বাসস্ট্যান্ডে মহাসড়কের পাশ থেকে
অবৈধ চা স্টল উচ্ছেদের পর উচ্ছেদ হওয়া দোকানি ও
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুণর্বাসন করতে ২৮টি
লোহার তৈরি বাহারি টি-স্টল নতুন দোকান তৈরী করে মালিকদের হস্তান্তর করেন ইউএনও। আর এদের নামকরণ করা হয়েছে মেঘমালা’, ‘তিথিডোর’, ‘চারুদ্বীপ’, ‘উড়োচিঠি’, ‘ছায়াবীথি’নামে। এসব দৃষ্টি নন্দন কাজ করে উপজেলাবাসীর কাছে প্রশংসার দাবীদার হয়ে উঠেছেন ইউএনও হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।ভালুকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী উপজেলা সরকারি হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসার জন্য এন্টি ভেনম এর ব্যবস্থা ও সিপির বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট নির্মাণের ব্যবস্থা করাসহ উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডে প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও।