গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, জুলাই ঘোষণাপত্রকে জাতীয় দলিল হিসেবে স্বীকৃতি এবং জুলাই সনদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিতে শেরপুরে
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন – শহীদ ও আহত সেল এর আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪ কে স্মরণীয় করে রাখতে এক নদী রক্তের দাবী শীর্ষক আলোচনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর সভাপতিত্বে এতে শহীদ পরিবারের সদস্যরা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আহত জুলাই যুদ্ধারা।
কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার আগে গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক আন্দোলনের ইতিহাস পরিকল্পিতভাবে বিকৃত করা হচ্ছে। বিশেষ করে জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ, যা মুক্তিকামী মানুষের অধিকার ও সংগ্রামের দলিল, তাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। বক্তাদের মতে, এগুলো কেবল আঞ্চলিক ইতিহাস নয়, বরং গোটা দেশের গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক। বক্তারা আরও বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্রে উঠে এসেছিল জনগণের অধিকার, মুক্তিকামী মানুষের সংগ্রাম এবং গণআন্দোলনের দিকনির্দেশনা। অথচ এ দলিল রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষিত বা স্বীকৃত না হওয়ায় শহীদ ও আহত পরিবারগুলো এখনো বঞ্চনার শিকার। তাদের আর্থিক সহায়তা, সামাজিক মর্যাদা ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি আজও নিশ্চিত হয়নি। তারা বলেন, জুলাই সনদ শুধু একটি কাগজ নয়, এটি মুক্তিকামী মানুষের আত্মত্যাগের দলিল। শহীদদের রক্তে লেখা এই দলিল বিকৃত হতে দেওয়া যাবে না।
তারা দাবী করেন গণঅভ্যুত্থানের সময় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে স্বৈরাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। অনেকে জীবন দিয়েছেন, অনেকেই আহত হয়েছেন, কিন্তু তাদের আত্মত্যাগ আজও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পায়নি।
অনুষ্ঠানে কর্মসূচির মাঝেছিলো
১. স্ট্যাম্পের মাধ্যমে শহীদ পরিবারের মধ্যে সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা, ২. আরও দুটি শহীদ পরিবারের সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।৩. আটজন শহীদের নামে রাস্তার নামকরণ ও পাকা করণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
৪. তিনজন শহীদ পরিবার, যাদের নিজস্ব ভূমি নেই, তাদের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতায় জমি ও বাড়ি নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। অচিরেই এর সমাধান হবে।
৫. আহত জুলাই যোদ্ধাদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
৬. শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের উপর ফ্যাসিস্টদের হুমকি ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
৭. আটজন জুলাই যোদ্ধার কর্মসংস্থানের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ খুব দ্রুতই তারা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।
৮. শহীদ পরিবার থেকে জানানো হয়েছে—তারা এখন নির্বাচন চায় না, তারা চায় বিচার কার্যক্রম ও জুলাই সনদ।
৯. আহত জুলাই যোদ্ধারা বলেন—আমাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সংস্কার ও জুলাই সনদ। যদি এ বিষয়ে কোনো টালবাহানা করা হয়, তবে আমরা আবারও রাস্তায় নামবো।
১০. শহীদ পরিবারকে শুকনো খাবার উপহার প্রদান করা হয়েছে।
শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিরা জানান, তাদের দাবি কেবল আর্থিক সহযোগিতার নয়, বরং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। তারা বলেন, আমাদের প্রিয়জনরা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। কিন্তু আজও তাদের নাম ও আত্মত্যাগ যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ করা হয় না। আমাদের সন্তানরা যেন জানে তাদের পূর্বসূরিরা কীভাবে দেশের জন্য লড়াই করেছিলেন, এটাই আমাদের প্রধান দাবি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তা ও অংশগ্রহণকারীরা একযোগে ঘোষণা দেন, ইতিহাস বিকৃতির যে কোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে দ্রুত জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায় এবং মুক্তিকামী মানুষের আত্মত্যাগ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা লাভ করে।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপিটি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দ্রুত পৌঁছাবে এবং ইতিহাসের বিকৃতি বন্ধের পাশাপাশি শহীদ পরিবারের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কিছুটা হলেও ঘুচবে।
পরিশেষে অনুষ্ঠানটি সফল করতে যারা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, বিশেষ করে জিতু এবং তার সহযোদ্ধাদের, আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান আয়োজরা।
