ঢাকা৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ময়মনসিংহকে পর্যটনের নতুন ঠিকানা হিসেবে গড়তে সকলে মিলেমিশে কাজ করতে হবে- ডিসি মুফিদুল আলম

প্রতিবেদক
Arif
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৫ ২:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম-পর্যটন খাতকে ভবিষ্যতে এগিয়ে নিতে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এসময় তিনি বলেন, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। পর্যটনে বিনিয়োগের পাশাপাশি পরিবেশ বান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে। পর্যটনে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি তৈরিতে এই শিল্পের ভূমিকা অনেক। তাই এটিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে এশিয়ার অন্যতম পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। এসময় টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিবেশবান্ধব পর্যটন গড়ে তোলার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ময়মনসিংহকে পর্যটনের নতুন ঠিকানা হিসেবে গড়ে তোলতে সকলকে মিলেমিশে কাজ করার আহবান জানান ডিসি মফিদুল আলম।

শনিবার(২৭সেপ্টেম্বর) সকালে টেকসই উন্নয়নে পর্যটন”—এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ময়মনসিংহে পালিত বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত র্যালী পরবর্তী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক। র‍্যালিটি টাউন হল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জুলাই চত্বরে হয়ে আবারও টাউন হল প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। র্যালীতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা অংশ গ্রহণ করে।
পরে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোঃ মুফিদুল আলম।

এসময় বক্তারা তুলে ধরেন, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের অবারিত সম্ভাবনা রয়েছে। ময়মনসিংহ অঞ্চলের লালপুর, ব্রহ্মপুত্র নদ, শশী লজ, আলেকজান্ডার ক্যাসেল, ময়মনসিংহ জাদুঘরসহ অসংখ্য ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থানগুলোকে যদি আধুনিক সুবিধার আওতায় আনা যায়, তবে এটি দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে বক্তারা গুরুত্ব দেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নে নজর দেওয়া,দেশি-বিদেশি পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করা,এবং স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বে পরিচিত করার ওপর। তাদের মতে, প্রকৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে পর্যটন উন্নয়নই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দিগন্ত।

এসময় জেলা প্রশাসক আরও বলেন-পর্যটন কেবল অর্থনীতিকে নয়, সংস্কৃতি ও সমাজকেও প্রভাবিত করে। আমাদের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প, গ্রামীণ জীবনধারা কিংবা আঞ্চলিক খাবার-সবই পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। তবে বাণিজ্যিকীকরণের ফলে এসব ঐতিহ্য হারানোর ঝুঁকিও রয়েছে। তাই দরকার কমিউনিটির অংশগ্রহণ, ন্যায্য আয়ের বণ্টন এবং স্থানীয় দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ। এভাবেই আগামীতে পর্যটন খাত হয়ে উঠবে সংস্কৃতিবান্ধব ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য।