ময়মনসিংহে মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি,মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সহযোগিতা নিশ্চিত করণ,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে মাদক প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদারকরণের লক্ষ্যে এক গণশুনানি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় নগরীর নতুন বাজারস্থ গার্ডেন সিটি ট্রিপল টি কনফারেন্স হলে
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব এ. এফ. এম. এহতেশামুল হক।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ জাফরুল্লাহ কাজল এর সভাপতিত্বে গণশুনানি অনুষ্ঠানে
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক মোঃ আবুল কালাম আজাদ। তিনি ও অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং বাস্তবধর্মী দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এএফএম এহতেশামুল হক মাদক নির্মুলে বিভিন্ন
দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন একই সাথে
তিনি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসন ও জনগণের পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।তিনি তার বক্তব্যে আরও বলেন, মাদককে না বলার মানসিকতা সবার মধ্যে তৈরি করতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি মাদকবিরোধী আন্দোলনে এগিয়ে আসে, তবে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
গণশুনানিতে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা ও জনসম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
এসময় তিনি বলেন, মাদক শুধু ব্যক্তিকেই ধ্বংস করে না, পরিবার ও সমাজকেও ধ্বংস করে দেয়। তাই তিনি যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে বাঁচাতে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একসঙ্গে কাজ করতেও আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে জামালপুর, নেত্রকোণা এবং ময়মনসিংহ জেলাসহ ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, মাদক নিরাময় কেন্দ্রের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৬০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্টেকহোল্ডার, লাইসেন্সধারী প্রতিনিধি, স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
গণশুনানিতে অংশগ্রহণকারীরা মাদক নিয়ন্ত্রণে করণীয়, সামাজিক সচেতনতা, লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতা এবং বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক বিষয়ে মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। আলোচনায় অতিথিরা মাদক নির্মূলে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
