ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনা সমালোচনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এই নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রশিদ জিতু। তবে সাধারণ সম্পাদক (জিএস)সহ ২১ টি পদে বিজয়ী হয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল।
ঘোষিত ফলাফলে বিজয়ীরা হলেন—
ভিপি: আব্দুর রশিদ জিতু (স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী প্যানেল)
জিএস: মো. মাজহারুল ইসলাম (শিবির প্যানেল)
এজিএস (পুরুষ): ফেরদৌস আল হাসান (শিবির প্যানেল),এজিএস (নারী): আয়েশা সিদ্দীকা মেঘলা (শিবির প্যানেল),শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক: আবু ওবায়দা ওসামা (শিবির প্যানেল),পরিবেশ সম্পাদক: মো. শাফায়েত মীর (শিবির প্যানেল),সাহিত্য সম্পাদক: মো. জাহিদুল ইসলাম (শিবির প্যানেল),সাংস্কৃতিক সম্পাদক: মহিবুল্লাহ শেখ জিসান (স্বতন্ত্র) / আলী জাকি শাহরিয়ার (শিবির প্যানেল),সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক: মো. রায়হান উদ্দীন (শিবির প্যানেল)
নাট্য সম্পাদক: মো. রুহুল ইসলাম (শিবির প্যানেল)
ক্রীড়া সম্পাদক: মাহমুদুল হাসান কিরন (স্বতন্ত্র)
সহ ক্রীড়া সম্পাদক (নারী): ফারহানা আক্তার লুবনা (শিবির প্যানেল),সহ ক্রীড়া সম্পাদক (পুরুষ): মো. মাহাদী হাসান (শিবির প্যানেল),আইটি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক: মো. রাশেদুল ইসলাম লিখন (শিবির প্যানেল),সমাজসেবা সম্পাদক: আহসাব লাবিব (গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ-বাগছাস),সহ সমাজসেবা সম্পাদক (নারী): নিগার সুলতানা (শিবির প্যানেল)
সহ সমাজসেবা সম্পাদক (পুরুষ): মো. তৌহিদ হাসান (শিবির প্যানেল),স্বাস্থ্য সম্পাদক: হুসনী মোবারক (শিবির প্যানেল),পরিবহন সম্পাদক: মো. তানভীর রহমান (শিবির প্যানেল) কার্যকরী সদস্যরা হলেন (পুরুষ):১. মো. তরিকুল ইসলাম (শিবির প্যানেল)
২. মো. আবু তালহা (শিবির প্যানেল),৩. মো. মহসিন (শিবির প্যানেল) (নারী):১. নাবিলা বিনতে হারুণ (শিবির প্যানেল),২. ফাবলিহা জাহান (শিবির প্যানেল)
৩. নুসরাত জাহান ইমা (শিবির প্যানেল) ফলাফলে দেখা যায়, ভিপি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হলেও জিএসসহ অধিকাংশ পদে শিবির প্যানেল বিপুলভাবে বিজয়ী হয়েছে। কেবল দুটি পদে স্বতন্ত্র এবং একটি পদে বাগছাস প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। কার্যকরী সদস্যদের সবগুলো পদই গেছে শিবির প্যানেলের দখলে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার(১২সেপ্টেম্বর) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে নির্বাচনে জাল ভোট, নকল ব্যালট ব্যবহার, পোলিং এজেন্টদের কাজে বাধা দেওয়া এবং শিবির-সমর্থিত প্রার্থীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়াসহ অসংখ্য অনিয়ম, ভোট কারচুপি ও প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল। এছাড়াও নির্বাচনে জামায়াত সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ব্যালট সরবরাহ করেছে এমন দাবীও করেন ছাত্রদল ও বাগছাস সমর্থিত প্রার্থী। তার পর ফলাফল নিয়েও হয় টালবাহানা। অবশেষে শনিবার ১৩ সেপ্টেম্বর এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
