ময়মনসিংহ, রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ () ২৯°সে
শিরোনাম :
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সকল অপরাধের বিচার ত্বরান্বিত করা জরুরি  ঈশ্বরগঞ্জে সুজন এর কমিটি গঠিত আধুনিক ও ডিজিটাল ভালুকা পৌর এলাকাগড়ার প্রত্যয়ে মেয়র পদে ইঞ্জিঃ মাসুদের ব্যাপক গণসংযোগ করোনায় আক্রান্ত আওয়ামী লীগ নেতা কৃষিবিদ সামিউল আলম লিটন জাতীয় সংসদেও হুইপ আতিউর রহমান আতিক করোনায় আক্রান্ত শেরপুরে ক্লিনিক ব্যবসায়ীদের সাথে পুলিশের মতবিনিময় ময়মনসিংহে “মায়ের মমতা কল্যাণ সংস্থা’র ৯ম শাখার উদ্ভোধন শেখ হাসিনার জন্ম না হলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের অভিযাত্রা সফল হতো না- সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকতায় সম্মাননা স্বারক পেলেন ময়মনসিংহের মফিদুল ইসলাম লাভলু বিডি ক্লিন নকলা টিমের বর্ষপূর্তিতে সম্মাননা স্মারক প্রদান

শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ দ্রুত গতির বিমান তৈরি হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,

শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ দ্রুত গতির হাইপার সনিক বিমান তৈরি হচ্ছে। আর এই বিমান কার আগে কোন প্রতিষ্ঠান তৈরি করবে তা নিয়ে চলছে প্রতিযোগিতা। খবর বিবিসির।

ব্রিটিশ কোম্পানি রিঅ্যাকশন ইঞ্জিনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার প্রধান অ্যাডাম ডিসেল জানিয়েছেন তাদের প্রতিষ্ঠান চাইছে সবার আগে হাইপার সনিক বিমান তৈরি করতে।

এ নিয়ে তিনি বলেন, আমার চাকরি জীবনের একটা বড় অংশ কেটেছে দ্রুত গতিতে উড়তে পারে এমন সব বিমান তৈরি করে’।

রিঅ্যাকশন ইঞ্জিন এমন এক হাইপারসোনিক বিমান তৈরি করছে যেটি শব্দের চেয়েও পাঁচগুণ দ্রুতগতিতে উড়তে পারে। অর্থাৎ বিমানটি প্রতি ঘণ্টায় ৬,৪০০ কিলোমিটার পথ উড়তে পারবে। মাক-১ হচ্ছে গতিমাপক সংখ্যা। শব্দ প্রতি ঘণ্টায় ১২৩৫ কিলোমিটার পথ উড়ে যেতে পারে।

এদের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে এরা এমন একটি যাত্রীবাহী বিমান তৈরি করবে লন্ডন থেকে সিডনি যেতে যার সময় লাগবে মাত্র চার ঘণ্টা। এখন সময় লাগে ২১ ঘণ্টারও বেশি। লস অ্যাঞ্জেলস থেকে টোকিও যেতে এই বিমানের সময় লাগবে মাত্র দু’ঘণ্টা।

তবে হাইপারসোনিক বিমান তৈরির গবেষণার বেশিরভাগ চলছে বেসরকারি বিমান নয়, জঙ্গীবিমান তৈরির লক্ষ্যে।

বিমানে ওঠার ভয় কাটানোর উপায়

মাক-৫ গতিতে একটি বিমান উড়ে গেলে যে পরিমাণ তাপ তৈরি হবে তা সহ্য করতে পারে এমন উপকরণ তৈরির যেমন গবেষণা চলছে, তেমনি বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন এর সাথে তাল মেলাতে পারে এমন প্রযুক্তি তৈরি করতে। এসব হিসেব মিলে গেলেই পৃথিবীর ভূমণ্ডলের ভেতর দিয়ে শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ গতিতে উড়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে তারা মনে করছেন।

জেমস অ্যাকটন হলেন ওয়াশিংটন-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর একজন পদার্থবিজ্ঞানী। তিনি বলছেন, হাইপারসোনিক অস্ত্র তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীন বিভিন্ন ধরনের নকশা নিয়ে কাজ করছে।

তবে হাইপারসোনিক বিমান তৈরির চেষ্টা কিন্তু নতুন নয়। আমেরিকা সেই ১৯৬০ সালেই এক্স-১৫ নামে একটি হাইপারসোনিক রকেট তৈরি করেছিল। এবং আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র যাকে আইসিবিএম বলা হয় সেগুলো যখন মহাকাশ থেকে আবার বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসে তখন তার হাইপারসোনিক গতি থাকে।

এখন বিশ্ব পরাশক্তিগুলো এমন অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে যেটি বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে উড়ে যেতে পারবে। উচ্চতাপ থেকে রক্ষার জন্য একে আর মহাশূন্যে পাঠানোরই প্রয়োজন হবে না। আর এই অস্ত্র দিয়ে শুধু শহর নয়, যেসব লক্ষ্য বস্তু নড়াচড়া করতে পারে তাকেও আঘাত করা সম্ভব হবে।

হাইপারসোনিক গবেষণায় অগ্রবর্তী তিনটি দেশই এই খাতে বিপুল সামরিক বরাদ্দ ব্যয় করছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর হাইপারসোনিক গবেষণা বিভাগের উপপরিচালক মাইক হোয়াইট জানান, প্রতিপক্ষ শক্তি তাদের এই ক্ষেত্রে ‘আমাদের শ্রেষ্ঠত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে।’ এটাই এই খাতে মার্কিন গবেষণাকে গতিশীল করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

হাইপারসোনিক মিসাইল তৈরির মূল সমস্যা লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করার সঠিকত্ব। আর ঠিক এই কারণেই চীনের হাতে হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকলে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোকে চীনা উপকূলকে অনেক দূরে রেখে চলাচল করতে হবে।

হাইপারসোনিক মিসাইল যখন উড়ে যেতে থাকে তখন তাপমাত্রার কারণে মিসাইলের চারপাশে একটা গ্যাসের প্লাজমা আবরণ তৈরি হয়।

এর জন্য মিসাইলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে। সামরিক যোগাযোগের স্যাটেলাইট মিসাইলকে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, এবং লক্ষ্যবস্তু যদি চলমান হয় তাহলে মিসাইল আর লক্ষ্যভেদ করতে পারে না।

অতি দ্রুত গতি এবং উচ্চ তাপমাত্রার ফলে অক্সিজেনের অণুগুলো ভেঙে পরমাণুতে পরিণত হয়। সেটা মিসাইলের ইঞ্জিনের দক্ষতাকে অনেকখানি কমিয়ে ফেলে।

কিন্তু এরপরও হাইপারসোনিক গবেষণায় নাটকীয় অগ্রগতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০১০ সালে প্রশান্ত মহাসাগরে হাঙ্গরের মুখের মতো দেখতে এক্স-৫১ হাইপারসোনিক মিসাইলের পরীক্ষা চালিয়েছে যেটি পাঁচ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে হাইপারসোনিক ছিল।

এটি অনেক উঁচু দিয়ে উড়ে যাওয়া একটি বি-৫২ বম্বার থেকে ছোঁড়া হয়। মিসাইলের সাথে লাগানো ছিল একটি বুস্টার রকেট যেটি প্রথম ধাপে মিসাইলটিকে ৪.৫ মাক গতি এনে দেয়। তারপরই মিসাইলটির নিজস্ব ইঞ্জিন চালু হয় এবং তার গতি আরও বেড়ে যায়।

হাইপারসোনিক বিমানের গবেষণায় এসব সমস্যা দূর হলেই আগামী ১৫ বছরের মধ্যে যাত্রীবাহী হাইপারসোনিক বিমান আকাশে পাখা মেলবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

হাইপারসোনিক বিমানে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভিআইপিরা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারবেন, এমন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চায় মার্কিন বিমান বাহিনী। তারা বিশেষভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য হাইপারসোনিক বিমান তৈরি করতে চায়।

সে জন্য বিমান বাহিনী অ্যাটলান্টা-ভিত্তিক একটি কোম্পানিকে দায়িত্ব দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য ২০ জন যাত্রীবাহী একটি বিমান নির্মাণের সম্ভাবনা পরীক্ষা করে দেখার জন্য। মাক-৫ গতিতে আকাশে উড়বে যে স্বল্প ক’জন ভাগ্যবান তার সাথে যুক্ত হবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নাম।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

শেখ হাসিনার জন্ম না হলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের অভিযাত্রা সফল হতো না- সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী
ইউএনওকে হামলায় গ্রেপ্তার দুই নেতা যুবলীগ থেকে বহিষ্কার
খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ল
আ.লীগ ‘পুতুল সরকার’ হিসেবে কাজ করছে: মির্জা ফখরুল
আওয়ামী লীগের কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
খালেদার আবেদন আইন মন্ত্রণালয়ে, যা বললেন মন্ত্রী

আরও খবর