ময়মনসিংহ, মঙ্গলবার, ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ | ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ () ২০°সে
শিরোনাম :
হালুয়াঘাটে সাংসদ জুয়েল আরেংকে সংবর্ধনা জুয়েল আরেং যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়ায় হালুয়াঘাটে আনন্দ মিছিল জুয়েল আরেং যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়ায় হালুয়াঘাটে আনন্দ মিছিল হালুয়াঘাটে গড়ে উঠছে অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পট হালুয়াঘাটে বহুল প্রতীক্ষিত ভারতীয় কয়লা আমদানি শুরু ময়মনসিংহে চুরি চিনতাই মাদকরোদে বিট পুলিশ সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হালুয়াঘাট সাধারণ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন চুরি চিনতাই ও মাদকরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মহড়া জকিগঞ্জে আল ইসলাহ ও তালামীযের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ময়মনসিংহে জেলা ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কমিটি গঠন

সদকাতুল ফিতর কি, কেন এবং তার গুরুত্ব

অধ্যক্ষ ড. মো: ইদ্রিস খান:


ফিতরা বা সদকাতুল ফিতর হলো সেই নির্ধারিত সদকা, যা ঈদের নামাজের আগে প্রদান করতে হয়। একে জাকাতুল ফিতরও বলা হয়। ঈদের দিন সকালবেলায় যিনি নিসাব পরিমাণ সম্পদের (সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বাহান্ন ভরি রুপা বা সমমূল্যের ব্যবসাপণ্যের) মালিক থাকবেন, তাঁর নিজের ও পরিবারের ছোট–বড় সবার পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা তাঁর প্রতি ওয়াজিব। রুপার হিসাবে বর্তমান বাজারমূল্যে এটি ৫০ হাজার টাকা প্রায়। যাঁরা নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক নন, তাঁদের জন্যও ফিতরা আদায় করা সুন্নত ও নফল ইবাদত।

একে অন্যের ফিতরা আদায় করতে পারবেন। সুবিধার জন্য রমজানেও ফিতরা আদায় করা যায়। যাঁদের জাকাত দেওয়া যায়, তাঁদের ফিতরাও দেওয়া যায়। ফিতরা নির্ধারিত খাদ্যসামগ্রী বা তার মূল্যে টাকায়ও আদায় করা যায় এবং অন্য কোনো বস্তু কিনেও দেওয়া যায়। পিতা, মাতা ও ঊর্ধ্বতন এবং ছেলে, মেয়ে ও অধঃস্তন এবং যার ভরণপোষণের দায়িত্ব রয়েছে (যেমন স্ত্রী), তাঁদের ওয়াজিব ফিতরা ও জাকাত প্রদান করা যায় না। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণনা, নবী (সা.)–এর জমানায় আমরা সদকাতুল ফিতর দিতাম এক সা (সাড়ে তিন কেজি প্রায়) খাদ্যবস্তু, তিনি বলেন, তখন আমাদের খাদ্য ছিল: যব, কিশমিশ, পনির ও খেজুর। (বুখারি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২০৪)। তিনি আরও বলেন: আমরা সদকাতুল ফিতর আদায় করতাম এক সা খাদ্যবস্তু, যেমন: এক সা যব, এক সা খেজুর, এক সা পনির, এক সা কিশমিশ। (বুখারি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা: ২০৫)।

একবার মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রা.) ওমরাহ করার জন্য এলেন। তিনি জনগণের উদ্দেশে মিম্বারে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন। তখন তিনি আলোচনা করলেন সে বিষয়, যে বিষয়ে মানুষ প্রশ্ন করেছে। তিনি বললেন, আমি দেখছি শামের দুই মুদ (নিসফ সা বা পৌনে দুই কেজি) আটা সমান হয় (মূল্যমান হিসাবে) এক সা (সাড়ে তিন কেজি) খেজুরের। অতঃপর মানুষ (সাহাবায়ে কিরাম ও তাবিয়ীগণ) এই মত গ্রহণ করলেন। (মুসলিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩১৭-৩১৮)।

হাসান বসরি (রহ.) বর্ণনা করেন, আলী (রা.) বললেন: ‘আল্লাহ যখন তোমাদের প্রাচুর্য দিয়েছেন তোমরাও উদার হও, গমও এক সা দাও।’ (নাসায়ি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৬৮-২৭০)। হজরত ইমাম আযম (রহ.)–এর মতে, অধিক মূল্যের দ্রব্য দ্বারা ফিতরা আদায় করা উত্তম; অর্থাৎ যা দ্বারা আদায় করলে গরিবদের বেশি উপকার হয়, সেটাই উত্তম ফিতরা। ইমাম মালিক (রহ.)–এর মতে, খেজুর দ্বারা ফিতরা আদায় করা উত্তম এবং খেজুরের মধ্যে সবচেয়ে উন্নত ‘আজওয়া’ খেজুর দ্বারাই আদায় করা উত্তম। ইমাম শাফিয়ী (রহ.)–এর মতে, হাদিসে উল্লিখিত বস্তুসমূহের মধ্যে সর্বোত্কৃষ্ট ও সর্বোচ্চ মূল্যের দ্রব্য দ্বারা সদকা আদায় করা শ্রেয়। অন্য সব ইমামের মতও অনুরূপ। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.)–এর মতে, সাহাবায়ে কিরাম (রা.)–এর অনুসরণ হিসেবে খেজুর দ্বারা ফিতরা আদায় করা উত্তম।

এ ছাড়া সদকার ক্ষেত্রে সব ফকিহর ঐকমত্য হলো: ‘যা গরিবদের জন্য বেশি উপকারী।’ (আল মুগনি, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২১৯; আওজাজুল মাসালিক শরহে মুআত্তা মালিক, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ১২৮)। মুজতাহিদ ফকিহগণের মতে, যেখানে যা প্রধান খাদ্য তা দ্বারা আদায় করা শ্রেয়। মুজতাহিদ ইমামগণের মতে, যেসব খাদ্যবস্তু (ক) সহজে সংরক্ষণযোগ্য, (খ) সহজে বিনিময়যোগ্য ও (গ) বাজারমূল্য স্থিতিশীল থাকে; সেসব খাদ্যদ্রব্য দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করা যায়। উল্লেখ্য, চালের মধ্যে এই তিনটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান এবং সৌদি আরবসহ সব আরব দেশ এবং প্রায় সব মুসলিম দেশ বর্তমানে চালের হিসাব গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন দামের খাদ্যবস্তু রয়েছে, এর মধ্যে কোনটি দ্বারা ফিতরা আদায় করা হবে? উত্তম হলো সর্বোচ্চ মূল্যের খেজুর বা চালের মূল্যে আদায় করা।

তবে ধনীরা সর্বোচ্চ এবং সাধারণরা মাঝামাঝি মূল্যে আদায় করাই শ্রেয়। ইনসাফ হলো, যাঁরা যে চালের ভাত খান বা যাঁরা যে খেজুর দ্বারা ইফতার করেন, তাঁরা সে সমমানের বা সমমূল্যে ফিতরা আদায় করবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘তা-ই উত্তম, দাতার নিকট যা সর্বোৎকৃষ্ট এবং যার মূল্যমান সবচেয়ে বেশি।’ (বুখারি, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ১৮৮)

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

ডায়েরি বাংলাদেশ (বঙ্গবন্ধু ১৯২০-১৯৭৫) 
ভা’ইরাস থেকে বাঁচতে নবীজীর নির্দেশনা অত্যন্ত কার্যকর: মার্কিন গবেষক
জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় আস্থাহীনতা: এ অচলাবস্থার অবসান জরুরি
ইফতারের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
রোজা ও কোরআন হাশরের ময়দানে মানুষের জন্য জান্নাতের শুপারিশ করবে
সামাজিক অবক্ষয়ই আমাদের অগ্রগতির পথে প্রধান বাধা

আরও খবর