ময়মনসিংহ ২৮.৭৪°সে ১লা ডিসেম্বর, ২০২১

ভা’ইরাস থেকে বাঁচতে নবীজীর নির্দেশনা অত্যন্ত কার্যকর: মার্কিন গবেষক


বি’শ্বব্যাপী ছ’ড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী মহামারি ক’রোনাভা’ইরাসে ভীত গোটা মানবসমাজ। নাজুক এই পরি’স্থিতি থেকে রক্ষা পেতে অসংখ্য উপায় উপকরণের শরণাপন্ন হচ্ছে তারা।

কিন্তু আ’বিষ্কারের পর থেকে এখন পর্যন্ত পরিত্রাণের ক্ষেত্রে কোনো আশার আলো দেখা যাচ্ছে না।এই সং’কটাপন্ন সময়ে তরুণ মার্কিন গবেষক ড. ক্রেগ কন্সিডাইন করোনা প্রতিরোধে মহানবী (সা.)-এর নির্দেশনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থিত রাইস ইউ’নিভার্সিটির এ’কজন গবেষক হিসেবে কর্মরত। এনএএস নিউজে প্রকাশিত তাঁর সাক্ষাৎকারের ভাষান্তর করেছেন বেলায়েত হুসাইনবিশ্ব কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

ক’রোনাভা’ইরাস বিজ্ঞানীদের চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। প্র’তিটি দেশের সরকার এবং গণমাধ্যম ক’রোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে জনগণকে বিভিন্ন সময় নানা রকম স্বাস্থ্য টিপস দিয়ে সতর্ক করে যাচ্ছে।মানবসভ্যতার ওপর পতিত বড় এই মহামারির প্রতিষেধক খুঁ’জতে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এ পর্যন্ত আস্থাশীল কোনো উপায়ের সন্ধান পাননি।

ক’রোনা প্রতিরোধে কেউ নতুন কিছু বললে সেদিকে সবার আগ্রহ তীব্রতর হচ্ছে। চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের প্র’চেষ্টার একটিই লক্ষ্য সংক্রামক এই ব্যাধি থেকে গোটা পৃথিবীকে কিভাবে সুরক্ষা দেওয়া যায়?

ইমিউনোলজিস্ট বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অ্যান্থনি ফসি এবং মে’ডিক্যাল রিপোর্টার ডাক্তার সঞ্জয় গুপ্তের ম’তো বিজ্ঞ চিকিৎসকরা করোনা থেকে সুরক্ষিত থাকতে প’রিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সুন্দর ব্যবস্থাপনায় হোম কোয়ারেন্টিনের কথা বলেছেন।একই সঙ্গে সুস্থ লোকদের জন্য জনসমাগম এড়িয়ে একাকী জীবনযাপনের পরামর্শ দিয়েছেন।

তাঁরা দা’বি করেছেন, এসব উপায়ই করোনা থেকে বেঁ’চে থাকার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।অথচ আপনারা কি জানেন মহামারির সময়ে সর্বপ্রথম কে এই কোয়ারেন্টিনের উদ্ভাবন করেছেন?

আজ থেকে প্রায় ১৩ শ বছর আগে ইসলাম ধর্মের নবী মুহাম্মাদই (সা.) পৃ’থিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম ‘কো’য়ারেন্টিন’-এর ধারণা দেন।

তাঁর সময়ে উল্লেখযোগ্য কোনো সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ছিল না।তবে তিনি এসব রোগব্যাধিতে করণীয় স’ম্পর্কে তাঁর অনুসারীদের যে নির্দেশনা দিয়েছেন এককথায় তা ছিল দুর্দান্ত! তাঁর মূল্যবান সেই পরামর্শ মানলেই করোনার মতো যেকোনো ম’হামারি থেকে যথেষ্ট সচেতনতা অবলম্বন করা যায়।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, যখন তুমি কোনো ভূখণ্ডে প্লেগ ছ’ড়িয়ে পড়ার খবর শুনতে পাও তখন সেখানে প্রবেশ কোরো না। পক্ষান্তরে প্লেগ যদি তোমার অ’বস্থানস্থল পর্যন্ত পৌঁছে যায় তাহলে ওই জায়গা ত্যাগ কোরো না।

তিনি আ’রো বলেন, সং’ক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ মানুষের থেকে দূরে থাকবে।এভাবে বি’ভিন্ন সময়ে নানা পরিস্থিতিতে ইসলামের নবী মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর অনুসারীদের বিশেষ করে রোগব্যাধিতে আক্রান্ত লোকদের পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারেও উদ্বুদ্ধ করতেন।

এ ব্যা’পারে তাঁ’র অমূল্য কিছু কথামালা হলো, ‘পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অংশ’, ‘ঘুম থেকে জেগেই দুই হাত ধৌত করো।

কেননা ঘু’মের মধ্যে তোমার হাত কোথায় নড়াচড়া করেছে তুমি জান না’, ‘খাওয়ার আগে ও পরে ধৌ’তকরণের মধ্যেও বরকত রয়েছে’ ইত্যাদি।মোটকথা, তাঁর অনুসারীরা যেকোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন হোক তা থেকে পরিত্রাণের ব্যাপারেই তিনি তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

ধর্মীয় ক্ষেত্রে তি’নি যে’মন ব্যাপক অবদান রেখে অমর হয়ে আছেন, ঠিক তেমনই মানুষের জীবনযাপন বিষয়ক মহামূল্যবান যে পরামর্শ তিনি দিয়ে গেছেন তা আজও অনুকরণীয়।

আপনার মতামত লিখুন :

 
   
২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত , দৈনিক ময়মনসিংহ প্রতিদিন | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম
close