ময়মনসিংহ ২১.৬৫°সে ২২শে অক্টোবর, ২০২১

সর্বনিম্ম দরদাতাকে কার্যাদেশ দিতে ডিপিডিসির গড়িমসি, পিছিয়ে যেতে পারে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড


ডিপিডিসি’র নিজস্ব বাজেটের আওতায় চলতি বছরের ৩১ শে মে ৭০ কি. মি. দৈর্ঘ্যরে ১১ কেভি ৩-কোর ৩০০ স্কয়ার মি. মি. ভূগর্ভস্থ কপার কেবল সরবরাহের টেন্ডার ওপেন করা হয়। পরবর্তীতে কারিগরি মূল্যায়ন করার পর গত ০৯ই সেপ্টেম্বর ২০২১ আর্থিক মূল্য ওপেন করা হয়, এতে বি বি এস কেবলস্ সর্বনিম্ম দরদাতা হয়। বর্তমানে গুঞ্জন রয়েছে একটি স্বার্থন্বেসী কুচক্রী মহল সর্বনিম্ম দরদাতাকে কার্যদেশ না দিয়ে পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করার পায়তারা করছে এবং বলা হচ্ছে প্রাক্কলিত মূল্য সর্বনিম্ম দরদাতার চেয়ে অনেক কম। কিন্তু টেন্ডারটি প্রাক্কলন করার সময় অর্থৎ ১লা জুলাই ২০২০ সালে আর্ন্তজাতিক ভাবে কপার রেট ছিল ৬,১৩৫ ডলার। কিন্তু টেন্ডার ওপেন করা হয়েছে ৩১ শে মে ২০২১ সালে যখন আর্ন্তজাতিক ভাবে কপারের রেট ছিল ১০,১৫৯ ডলার। তাছাড়া গত ১১ মাসে কপার এর দাম আর্ন্তজাতিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে ৬৫.৬৯%, কাজেই এই সময়ে এসে সকল টেন্ডার এর সর্বনিম্ন দর পূর্বের চেয়ে দ্বিগুন হওয়াটাই স্বাভাবিক। উল্লেখ্য যে, একই সময়ে DPDC তে অন্য একটি টেন্ডার বি আর বি কেবলস্ লিঃ সর্বনিম্ন দরদাতা হয় এবং তাকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তাহলে প্রশ্ন জাগে এই টেন্ডারে বি আর বি কেবলস্ লিঃ সর্বনিম্ন দরদাতা না হওয়াতেই কি পূনঃ টেন্ডারের আয়োজন চলছে? বর্তমানে কপার এবং বিভিন্ন মেটালসহ PVC, XLPE, SEMICON I COPER TAPE দাম উর্ধ্বমুখী কাজেই পূনরায় দরপত্র আহবান করা হলে বর্তমান দামের চেয়ে বেশী মূল্যে উক্ত ক্যাবল কেনা লাগতে পারে। DPDC, PDB, DESCO & BREB সহ সকল সংস্থাকে এই ঘটনার মুখোমুখী হতে হচ্ছে এবং অন্যরা এ ঘটনাকে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন এর বিধি ৯৮ উপ-বিধি ২৫ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। যাহাতে বলা আছে “দরপত্র মূল্যায়নের পর যদি পরিলক্ষিত হয় যে, সর্বনিম্ন মূল্যায়িত দরপত্রের উদ্ধৃত মূল্য দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্য বা নির্ধারিত বাজেট বা উভয়ক্ষেত্রে হইতে বেশি হয়, কিন্তু উহা বিদ্যামান বাজার মূল্যে গ্রহণযোগ্য মাত্রার সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহা হইলে প্রয়োজনীয় বাজেট প্রাপ্তিসাধ্য করা সাপেক্ষে, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি উক্ত দরপত্র গ্রহন, বা ক্রয়কারী কর্তৃক সংশ্লিষ্ট ক্রয়ের ব্যাপ্তি হ্রাসের নির্দেশ প্রদানের বা চুক্তিমূল্য হ্রাসে সহায়ক হইবে এইরুপ ঝুকি ও দায়িত্বের পুনঃবণ্টন সুপারিশ করিয়া অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের নিকট মূল্যায়ন প্রতিবেদন পেশ করিতে পারিবে”। যদি এসব টেন্ডার পূনরায় আহবান করা হয় তবে সরকারের সকল উন্নয়ন মূলক কাজ ১ বছরের বেশি পিছিয়ে যাবে এবং খরচও পূর্বের চেয়ে অনেক বেড়ে যাবে। কাজেই বিষয়টি সুকৌশলে সরকারের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করার একটি চক্রান্ত কিনা তা যথাযথ তদন্ত করার দাবী রাখে। এসব বিষয় নিয়ে একটি স্বনামধন্য কেবলস কোম্পানীর এমডি’র সাথে আলাপ করলে তিনি জানান গত ১ বছরে তারা যে সকল টেন্ডারে সর্বনিম্ন দরদাতা হয়ে কার্যাদেশ পেয়েছেন তার প্রতিটি টেন্ডারে গড়ে ৩০% লস হয়েছে তা সত্তেও সরকারের চলমান উন্নয়ন মূলক কাজ এগিয়ে নেওয়ার স্বার্থে এবং বিজনেস কমিটমেন্ট রর্ক্ষাে প্রতিটি টেন্ডারের মালামাল সময় মত ডেলিভারী দিয়েছেন বা দিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের এসব প্রতিষ্ঠানের ও চলমান প্রজেক্ট গুলোর স্বার্থে এবং স্টেক হোল্ডারদের প্রতি একই রকম কমিন্টমেন্ট থাকা উচিৎ।

আপনার মতামত লিখুন :

 
আরো পড়ূন
 
   
২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত , দৈনিক ময়মনসিংহ প্রতিদিন | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম
close