ময়মনসিংহ, রবিবার, ৯ই মে, ২০২১ | ২৬শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

মুহাম্মদ মাসুদ রানা, হালুয়াঘাটঃ করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে যখন সারাদেশ ও সারা পৃথিবী আংতকগ্রস্ত এবং প্রতিদিন-ই মৃত্যুর রেকর্ড ভেঙে যখন মৃত্যুর নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে ঠিক এমন প্রতিকুল পরিবেশে ডাক্তারের মাধ্যমে এলাকার সাধারন রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছে ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী উপজেলা হালুয়াঘাটের ঐতিহ্যবাহী স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান জয়রামকুড়া হাসপাতাল।

হাসপাতালটি বেসরকারি ভাবে স্বাস্থ্যসেবায় এগিয়ে থাকলেও অর্থনৈতিক অবস্থা পূর্বের তুলনায় একটু দুর্বল এবং করোনা ভাইরাসের প্রকোপে প্রতিনিয়তই কমছে রোগীর সংখ্যা। হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতালটি পরিচালনায়। হাসপাতাল কতৃপক্ষ এ সংকটময় অবস্থায় বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। করেছে মাস্ক ক্যাম্পেইন ও জনসচেতনা মূলক কার্যক্রম। এখানে রোগীদের ইনডোর সেবা ছাড়াও আউটডোর সেবা অব্যাহত রয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায় যে, হাসপাতালের বাহিরে ও ভিতরে সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, জীবাণুনাশক স্প্রে করা, শতভাগ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নিশ্চয়তা। এ ছাড়াও আউটডোর রোগিদের হাসপাতালে প্রবেশপথে রয়েছে তাপমাত্রা মাপার মেশিন। জানা যায়,এ হাসপাতালে প্রতিবছর একদল জাপানি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আসেন। তারা অনেক জটিল অপারেশন স্বল্প ব্যয়ে করে থাকেন। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে জাপানি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদল না আসায় তা আর হয়ে ওঠেনি। বর্তমানে কোন সমস্যা আছে কি না জানতে চাইলে, হাসপাতাল কতৃপক্ষ আক্ষেপ করে বলেন, এক সময় এই হাসপাতালে দাতা সংস্থা সমুহের সহায়তা অব্যাহত ছিলো। সময়ের পরিক্রমায় তা আজ আর নেই। এখন শুধু অভ্যন্তরীণ আয়ের মাধ্যমে হাসপাতালটি টিকে আছে। আমরা হাসপাতালটির জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক মি.তরুন দারিং, কনসালটেন্ট ডা.লুসি দারিং এবং প্রতিষ্ঠানটির অর্থ ব্যবস্থাপক অংকুর ভৌমিক প্রমুখ।

হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক মি.তরুন দারিং এ প্রতিবেদককে জানান, বর্তমানে আমাদের হাসপাতালে ছয়জন ডাক্তার ও দুজন প্যারামেডিকেল নিয়মিত রোগী দেখছেন। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে রোগীদের সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছি। এখানে ব্র্যাক কর্তৃক পরিচালিত ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি এবং জিবিসি কতৃক পরিচালিত ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি নামে দুটি প্রতিষ্ঠান সরকারি নিয়ম মেনে খোলা হলেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও জিবিসি কতৃক পরিচালিত মাইক্রো ক্রেডিটের গ্রাহক সেবা অব্যাহত আছে।

হালুয়াঘাট তথা এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি, সকল প্রতিকূলতার মাঝেও হাসপাতাল কতৃপক্ষ মানুষের মাঝে যেভাবে সেবার দ্বার উন্মোচিত রেখেছেন তা যেন অব্যাহত থাকে।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

Loading...
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে হালুয়াঘাটে কৃষকের ধান কেটে দিলেন সাংসদ জুয়েল আরেং।
Loading...
হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
Loading...
হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
Loading...
লকডাউন শিথিলে খুশি নিম্নবিত্তরা; উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি
Loading...
টিসিবির পণ্য বিক্রয় এখন শহর ছাড়িয়ে গ্রামে
Loading...
হালুয়াঘাটে কর্মহীনদের পাশে ওমর ফাউন্ডেশন