ময়মনসিংহ ২৫.৯৫°সে ১০ই আগস্ট, ২০২২

আজ বিশ্ব বাবা দিবস


মায়ের মুখে কোনদিন ‘বাবা’ ডাক শোনা হয়নি। তাঁর ডাকা মা ডাকটাও কখনো মায়ের কানে পৌঁছায়নি। বাড়ি থেকে বের হবার সময়ও মা বলতে পারেনা ‘সাবধানে যাস খোকা।’ খেলার আগে কখনো শোনা হয় না ‘তুই জিতবি’ অনুপ্রেরণা। সুখ, দুঃখ, আনন্দ, উদ্বেগ অনেক এসেছে জীবনে, কিন্তু মা কখনো বলেনি ‘আমি গর্বিত তোর মা হয়ে!’

কিন্তু বাবা তাঁর সবার সেরা। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তিনি আছেন মিশে। পেটে-পিঠে, আদর্শ আর অনুপ্রেরণায় তিনি গড়ে তুলেছেন তাকে। বুঝতেই দেননি বাক প্রতিবন্ধী মায়ের ভাষার অভাব। ৩৪ বছর যাবত এভাবেই আগলে রেখেছেন সন্তানকে। এখনো দেশের মাটিতে খেলা হলে, ছেলেকে অনুপ্রেরণা দিতে ছুটে আসেন মাঠে। শুধু ছেলেই নয়, অন্য ক্রিকেটারও ছুটে যান তাঁর কাছে। একটু খানি সাব্বাশি পেতে। তাঁর বয়স ভুলে যাওয়া ক্রিকেট প্রেম প্রায়ই ধরা পড়ে ক্যামেরার লেন্সে।– বলছিলাম মুশফিকুর রহিমের বাবা মাহবুব হামিদের ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসার কথা।

অন্য সব বাঙালী বাবার মতোই তিনিও চেয়েছিলেন, তাঁর ছেলেও একদিন মস্ত ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হবে। স্বপ্ন দেখেছিলেন পাইলট হয়ে দূর আকাশে উড়ে বেড়াবে। কিন্তু ছেলে বড় ডানপিটে, আসক্তি তাঁর ক্রিকেটে। স্কুল পালিয়ে চলে যায় মাঠে, ধ্যান তাঁর বল-ব্যাটে। ছেলে যখন খেলতেই চায় ফুটবল খেলুক। তাঁর অতৃপ্ত, অপূর্ণ স্বপ্নটা সন্তান পূরণ করুক। লাল-সবুজের জার্সিটা গায়ে তুলুক। কিন্তু ছেলের ক্রিকেট প্রেম চিন্তার ভাঁজ তুললো কপালে। চাওয়ার অপূর্ণতায় একবার তো ছেলের ক্রিকেট ব্যাটটাই ভেঙে ফেলেছিলেন রাগে।

তবে সব বাধাঁ জয় করে, বাবাকে বুঝিয়ে; প্রতিভার অসামান্য নিদর্শন রেখে ছেলে যখন নিজেকে আরও প্রস্ফুটিত করতে বিকেএসপির পথে, তখন সেদিনের ব্যাট কেটে দেয়া বাবাই রক্ত পানি করে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জিত ৪৫ হাজার টাকার বিনিময়ে একটা ব্যাট কিনে দিয়েছিলেন ছেলেকে। ছেলের জিদ বৃথা যায়নি, বাবাও নিরাশ হয়নি। লাল-সবুজের জার্সিটা ছেলের গায়ে উঠেছে, যদিও তা ক্রিকেটে। তাতে কি আসে যায়, সবাই তো তাকে বিশ্বসেরার বাবা বলে!— বলছিলাম সাকিব আল হাসানের পিতা মাশরুর রেজার হেরেও জিতে যাবার গল্প।

কতোদিন ‘বাবা’ বলে ডাকা হয় না। বছরের পর বছর যায়, বাবার বুকে আর শোয়া হয় না। বাবাকে চেঁপে ধরে ঘুমানো হয় না। বাবার সাথে আর খেলা হয় না। অথচ একটা সময় তিনিই ছিলেন ছোট ছেলেটার নিত্যকার সঙ্গী। খাওয়া, খেলা, ঘুম; বাবাই ছিলেন তার ছায়া হয়ে। ‘বাবা পাগল ছেলে’ বলতে যা বুঝায়, সবটাই ছেলের মাঝে। নিজে ফুটবলার ছিলেন, ক্রিকেটও খেলেছেন। ফলে ছেলেদেরকে ঘিরেও সেভাবে স্বপ্ন দেখেছেন।

ভেবেছিলেন ছেলেদের তৈরী করবেন লাল-সবুজের প্রতিনিধি রূপে। যারা দেশের তরে ব্যাট-বল হাতে জীবন সঁপে দেয় মাঠে। কিন্তু হায়! সেই স্বপ্ন, সেই গল্প পূর্ণতা পাবার আগে, ছেড়ে সবাই রেখে৷ দূরে, বহুদূরে; যেখান থেকে কেউ কখনো ফিরেনা আর কারো ডাকে। তবে ছেলেরা বাবার স্বপ্ন পূরণ করেছেন, দুই ভাইই জাতীয় দলে খেলেছেন। তবে সেই প্রিয় ছোট ছেলেটা, যেন এগিয়ে আছেন কয়েক পা। আর আগামীর বিশ্বকাপের বিশ্ব লড়াইয়ে সেই ছেলের হাতেই থাকছে লাল-সবুজের ঝাণ্ডা! বাবা হয়তো সেই দূর আকাশ থেকেই দেখবেন ছেলেন বীরত্বগাঁথা।— পড়ছিলাম তামিম ইকবাল ও নাফিস ইকবালের পিতা ইকবাল খানের বিরহগাঁথা।

বাবা দিবসে পৃথিবীর সকল বাবার প্রতি ভালোবাসা। উচ্চস্বরে চিৎকার করে বাবাদের বলতে চাই ‘ভালোবাসি বাবা!’

 

আপনার মতামত লিখুন :

 
   
২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত , দৈনিক ময়মনসিংহ প্রতিদিন | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম